বিদেশ
দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা আত্মসমর্পণকারী আর্মেনীয় মেজরের
দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা আত্মসমর্পণকারী আর্মেনীয় মেজরের





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, Oct 24, 2020, 12:29 am
Update: 24.10.2020, 12:32:08 am
 @palabadalnet

 আজারবাইজানের হাতে আত্মসমর্পনকারী আর্মেনীয় মেজর। ছবি: আজভিশন

আজারবাইজানের হাতে আত্মসমর্পনকারী আর্মেনীয় মেজর। ছবি: আজভিশন

বিরোধীয় এলাকা নাগোরনো-কারাবাখে যুদ্ধ করতে গিয়ে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এডিক সোলাকভিচ তনোয়ান নামে এক আর্মেনীয় মেজর। এরপরই তিনি আর্মেনিয়ানদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা দেন।  শুক্রবার সেই ভিডিওটি আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যম আজভিশনে প্রকাশ করা হয়।    

এডিক সোলাকভিচ বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী। আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে এবং রক্ত ঝড়াতে আমাদের সন্তানদের অনুমতি দেয়া উচিত হবে না।  আমরা ভালোই জীবনযাপন করছি। আমরা একে অপরের কাছাকাছি রয়েছি।  আমাদের জাতি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং ভালো প্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখে।’ 

আর্মেনিয়ার কালিনিনো অঞ্চলের মেসটাভান গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন পুলিশের সাবেক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এডিক সোলাকভিচ তনোয়ান।  তিনি কালিনিনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন।  ওই বছরেই তিনি মেজর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অবসরে যান। 

এছাড়া তিনি কীভাবে আজারবাইজানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার যুদ্ধে জড়িত হয়েছেন তাও বর্ননা করেন।  
মেজর এডিক সোলাকভিচ বলেন, ‘আমি কারাবাখ যেতে রাজি হইনি, কারণ এটি আমাদের ভূখণ্ড নয়।  আমি বলেছি, যদি প্রয়োজন হয়, আমি আর্মেনিয়ার জন্য সেবা করতে প্রস্তুত, কিন্তু, আমি কারাবাখের জন্য সেবা দিতে প্রস্তুত নই। ’ 

তিনি বলেন, ‘একটি গাড়িতে ৩৩ জন লোক বসে ছিল।  তারা আমাদের কারাবাখে না নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।  আমরা জানি কারাবাখ আমাদের ভূমি নয় এবং আমরা সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা আমাদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলছে, আমরা আর্মেনিয়ার সেবা দেব। ’ 

‘আমরা গোরাসে পৌঁছালাম, গাড়ি সেখানে থামানো হল এবং আমাদের হাতে মেশিনগান তুলে দেয়া হল।  আমরা অস্ত্র নিতে চাইনি।  আমাদের বলা হয়েছিল, নিজেদের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজন হতে পারে।’

‘আমরা আজারবাইজানের ভূখণ্ড হোরাদিজ এলাকায় গেলাম। সেখানে আমরা পৌঁছানোর পর একটি গর্ত খনন করতে বলা হয়।  আমরা গর্ত খনন কাজে অংশগ্রহণ করি। যখন বোমা শুরু হয়, আমরা পালিয়ে গেলাম।  অন্য ৩৩ জন যারা আমার সঙ্গে ছিল, তাদের মধ্যে ১৫ জন পৌঁছাতে পারল।  তারা সবাই যুবক। ’

‘তারা সবাই দৌড়াল কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে দৌড়াতে পারলাম না। আমি মেশিনগান ফেলে দেই এবং আজারবাইজানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করি।’ 

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো ১৭ অক্টোবর রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। 

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।  

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]