জাতীয়
ধর্ষণের বিরুদ্ধে পুলিশের ৬,৯১২টি সমাবেশ, এটি ‘নজিরবিহীন’
ধর্ষণের বিরুদ্ধে পুলিশের ৬,৯১২টি সমাবেশ, এটি ‘নজিরবিহীন’





বিবিসি বাংলা ও ডয়চে ভেলে
Sunday, Oct 18, 2020, 12:01 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: একদিনে সারাদেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে পুলিশের  প্রথম বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ৬,৯১২টি সমাবেশকে ‘নজিরবিহীন’ বলা হচ্ছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এসব সমাবেশ থেকে  পুলিশ কর্মকর্তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন৷

বাংলাদেশে পুলিশের মোট ৬৪৭টি থানা আছে৷ এই থানাগুলোতে পুলিশের মোট বিট ছয় হাজার ৯১২টি৷ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সবগুলো বিটেই শনিবার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ হয়েছে৷ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অনেকেই অংশ নেন৷

এসব সমাবেশ থেকে ভুক্তভোগীদের নির্ভয়ে থানায় অভিযোগ করা আহ্বান জানানো হয়৷ সাধারণ মানুষ যেন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়তা করেন, সে আহ্বানও জানানো হয়৷

‘‘আমরা সারাদেশে এই সমাবেশের আয়োজন করেছি একটি বার্তা দিতে, তা হল ধর্ষণ করে রেহাই পাওয়া যাবে না৷ ধর্ষককে শাস্তির আওতায় আসতেই হবে,'' বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান৷

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, পুলিশ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোই ঘটতো না।

সিলেটের এমসি কলেজে এক নারীকে ধর্ষণ ও নোয়াখালীতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কিছু নারী নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিদিনই ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশ শনিবার সারা বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার সমাবেশ আয়োজন করে, যাতে লাখ লাখ সাধারণ মানুষও যোগদান করে বলে দাবি করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাটি।

ইতোমধ্যেই সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে আইন সংশোধন করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঢাকা শাহবাগ থানার সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি৷ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘‘ধর্ষণ এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়৷ মানুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতন হচ্ছে৷ আমরা ধর্ষণের শিকার নারীদের পাশে আাছি৷ আমাদের কথা হলো কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হবে না৷ আর কোনো মায়ের সন্তান যেন ধর্ষক না হয়৷''

এই সমাবেশে অংশ নেয়া রেহানা পারভীন বলেন, ‘‘ধর্ষণের শিকার যারা হন তারা ঠিকমত পুলিশের সহযোগিতা পান না৷ সহযোগিতা পেলে ধর্ষণ কমবে৷''

নারী নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোতে প্রায়শই ঠিক মতো অভিযোগ না নেয়া, অনেক সময় অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযোগ গ্রহণে ঢিলেমি বা সমঝোতার চেষ্টা করানো, কিংবা ঠিকমতো তদন্ত করে অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থতার জন্য পুলিশকে দায়ী করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

যদিও আলোচিত এসব ঘটনায় সমালোচনার সঙ্গে প্রতিবাদ বিক্ষোভ যখন তুঙ্গে তখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি নিশ্চিত-কল্পে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাত‌নের প্র‌তি‌টি ঘটনায় স‌র্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ কর‌ছে বাংলা‌দেশ পু‌লিশ।

প্রসঙ্গত পুলিশের হিসেবেই ২০১৯ সালে ৫,৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩,৯০০টি।

দেশটিতে নারী নির্যাতনের এমন পরিস্থিতি আর সবশেষে কিছু আলোচিত ঘটনা আর পুলিশের বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগের মধ্যেই শনিবার দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী প্রায় ৬,৯১২টি সমাবেশ হয়েছে পুলিশের উদ্যোগে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো যাকে ‌'নজিরবিহীন‌' বলে বর্ণনা করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপপরিচালক নীনা গোস্বামী বলছেন, ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর জানা গিয়েছিল যে পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে আগে গেলেও তারা অভিযোগ ঠিক মতো লিপিবদ্ধ না করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে।

"পুলিশের বরং এগুলো আগে দেখা উচিত। বাংলাদেশে একজন নারী নিপীড়নের শিকার হলে তিনি কি থানাগুলোতে নির্ভয়ে গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন? আবার অভিযোগ হলেও তা যে ঠিকমতো তদন্ত হবে তার কোনো নিশ্চয়তা আছে? বেগমগঞ্জের ঘটনা তাহলে এতো পড়ে জনসমক্ষে এলো কেনো? এগুলো ঠিক করলেই তো সমাজে সচেতনতা বেড়ে যেতো,"  বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, সমাবেশের অধিকার সবার আগে কিন্তু পুলিশ যে সমাবেশ করেছে তা নজিরবিহীন। বরং পুলিশ তার দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করলে নারী নির্যাতনের এমন পরিস্থিতিই তো তৈরি হতো না বলে মনে করেন তিনি।

আরেকজন মানবাধিকার সংগঠন নুর খান লিটন বলছেন, পুলিশের বরং আগে উচিৎ ভিকটিম যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ করতে তাদের কাছে যেতে পারে সেটি নিশ্চিত করা এবং অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই সেগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করানোর দক্ষতা অর্জন করা।

নুর খান লিটন ও নীনা গোস্বামী মনে করেন, অন্যদের মধ্যে সচেতনতার চেয়ে বরং পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ সত্যিকারভাবেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে - জনমনে এ বিশ্বাস তৈরি করাটাই পুলিশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]