দক্ষিণ এশিয়া
হিন্দু উগ্রবাদীদের আক্রোশে ভারতে শীর্ষ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার
হিন্দু উগ্রবাদীদের আক্রোশে ভারতে শীর্ষ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার





এএফপি
Saturday, Oct 17, 2020, 1:42 pm
 @palabadalnet

সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু কট্টরপন্থীদের জঘন্য প্রতিক্রিয়ার মুখে ভারতের শীর্ষ রত্ন জুয়েলারি চেইন ‘তানশিক’ একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খুচরা ক্রেতাদের কাছে টানতে এই বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল। কট্টরপন্থীদের অভিযোগ এতে ‘লাভ জিহাদের’ প্রশংসা করা হয়েছে।

তবে প্রত্যাহারের সমালোচকরা বলেছেন যে, এটি ছয় বছর আগে হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের প্রতি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশের নমুনা। 

তানশিকের মালিক পার্সীয় সংখ্যালঘু, যারা জরথাস্ট্রিয়ান ধর্ম অনুসরণ করে। এর বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, একটি মুসলিম পরিবার তাদের হিন্দু পুত্রবধূর জন্য ঐতিহ্যবাহী বেবি শাওয়ারের ব্যবস্থা করছে। 

গহনা কিনতে উদ্ধুদ্ধ করবে ‘একাত্মম’ ধারণা 

তানশিকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা অজান্তে সংবেদন অনুভূতিতে আঘাত লাগায় সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে গভীরভাবে দুঃখিত। আমরা আমাদের কর্মচারী, অংশীদার এবং স্টোর কর্মীদের অনুভূতি এবং মঙ্গলকে ধরে রেখে এই চিত্রটি প্রত্যাহার করেছি।”

বুধবার এনডিটিভি চ্যানেল জানিয়েছে যে গুজরাটে তানশিকের একটি স্টোর আক্রমণ করা হয়েছে এবং ম্যানেজার ক্ষমা চেয়ে নোট লিখতে বাধ্য হন। 

ভারত কি পথ হারিয়েছে?

বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করার পরও #বয়কট তানশিক টুইটারে ট্রেন্ডিং করা হয়। একজন ইউজার লিখেন এটি ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করছে। 

আরেক ইউজার লিখেন, “আপনার বেশিরভাগ কাস্টমার হিন্দু এবং আপনি তাদের অনুভূতিতে আঘাত করছেন।”

‘লাভ জিহাদ’ হলো একটি সাম্প্রতিক শব্দ, যা হিন্দু চরমপন্থীরা তৈরি করেছে। তাদের অভিযোগ মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মহিলাদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করছে। 

ভারতের ঐতিহ্যবাহী সমাজে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এখনও বিরল, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, যেখানে বেশিরভাগ বিয়ে হয় পারিবারিক সম্মতিতে।

যারা বর্ণ ও ধর্মের সীমানা অতিক্রম করেন তারা প্রায়ই নিগ্রহের শিকার হন এবং কখনও কখনও খুন হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পারসা ভেঙ্কটেশ্বর রাও বলেন, “(ক্ষমতাসীন দলের) শীর্ষ নেতারা কখনই এই ঘৃণা প্রচারের নিন্দা করেন না। তারা পুরোপুরি নীরব থাকেন, তারা এ জাতীয় প্রচারণাকে আস্কারা দিচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এটি চারিদিকে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করেছে।”



পালাবদল/এসএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]