দক্ষিণ এশিয়া
চার্জ গঠন ছাড়াই মুসলিম আইনজীবীকে ৬ মাস আটকে রেখেছে শ্রীলঙ্কা
চার্জ গঠন ছাড়াই মুসলিম আইনজীবীকে ৬ মাস আটকে রেখেছে শ্রীলঙ্কা





আলজাজিরা
Saturday, Oct 17, 2020, 9:11 am
 @palabadalnet

 বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী হেজাজ হিজবুল্লাহ

বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী হেজাজ হিজবুল্লাহ

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা শ্রীলঙ্কায় একজন মুসলিম আইনজীবীকে দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে আটকে রাখার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা বলেছেন যে, যারাই শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতে চায় বা অধিকার নিয়ে কাজ করতে চায়, তারা এই ঘটনায় শঙ্কিত বোধ করছে। 

বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী হেজাজ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ এনে এপ্রিল মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন, যদিও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। অধিকার গ্রুপগুলো বলেছে তাকে যথার্থ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। 

শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে বোমা হামলার সাথে জড়িতদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। ওই হামলায় আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয় এবং পাঁচ শতাধিক আহত হয়। ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা। 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া ডিরেক্টর মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেন, পুলিশ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন যে, তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা কারাগারের জনসংখ্যা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিলেও সরকার তাকে আটকে রেখেছে। 

এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহান সামারানায়েক আল জাজিরাকে কোনো মন্তব্য করেননি। 

শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিজবুল্লাহকে বিতর্কিত প্রিভেনশান অব টেররিজম অ্যাক্টের (পিটিএ) অধীনে গ্রেফতার করা হয়। এই আইনে কোনো ধরণের অভিযোগ না এনে বা বিচারকের সামনে হাজির না করেই যেকোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখতে পারে সরকার। 

জেনেভা-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জ্যুরিস্টস, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, এবং শ্রীলঙ্কা বিষয়ক ইউএন হিউম্যান রাইটস কোর গ্রুপও যথেচ্ছভাবে হিজবুল্লাহকে গ্রেফতার করে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে। 

কলম্বোর স্থানীয় একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৮ অক্টোবর তার মামলার আবার শুনানি হবে। তবে অধিকার কর্মীরা বলেছেন যে, জামিনের খুব একটা আশা তারা দেখতে পাচ্ছেন না। 

‘সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত’

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটি হলো তিনি ব্যবসায়ী ইউসুফ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। এই ব্যবসায়ীর দুই ছেলে ইনসাফ আর ইলহাম ইস্টার সানডের বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিল। 

হিজবুল্লাহ আর ইব্রাহিম দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য পার্লের বোর্ড সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করে এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক রিপোর্টে বলেছে, ২০১৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য ইলহামও ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে কাজ করেছিল। পরে তাকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলা হয়। মানবাধিকার গ্রুপটির মতে ইব্রাহিম আর সেভ দ্য পার্লের সাথে এই সংশ্লিষ্টতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে হিজবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

হিজবুল্লাহর আইনজীবীদের একজন হাফিজ ফারিস আল জাজিরাকে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো তিনি সেভ দ্য পার্ল কর্তৃক পরিচালিত স্কুলের মাধ্যমে ৮-১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরোক্ষভাবে ‘চরমপন্থী’ আদর্শ ছড়িয়েছেন। 

এই আইনজীবী জানান, এপ্রিলে বেশ কয়েকদিন ধরে পুত্তালাম জেলার আল জুহরিয়া অ্যারাবিক কলেজের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সে সময় তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে দিয়ে জোর করে বলানো হয়েছে যে, হিজবুল্লাহ তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। 

ফারিস বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছে। 

মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে এটাও জানা গেছে যে, স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের ‘মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অভিযোগ দাখিল করেছে। 

‘সত্যিকারের আতঙ্ক’

সমালোচকরা বলেছেন, হিজবুল্লাহ শ্রীলঙ্কায় আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও সমঝোতা এবং উদীয়মান ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে যে সব কাজ করেছেন, সেগুলোর কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। 

ইয়াং এশিয়া টেলিভিশানের সিইসি হিলমি আহমেদ আল জাজিরাকে বলেন যে, “চরমপন্থী বৌদ্ধদের পরিকল্পনায় ও তত্ত্বাবধানে শ্রীলঙ্কায় যে ঘৃণা ছড়ানোর প্রচারণা চালানো হয়েছিল, সেখানে অন্যতম শিকার ছিলেন হিজবুল্লাহ।”

আহমেদ বলেন, “হিজবুল্লাহ একজন অহিংস ও চরম মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি সহিংসতা তো দূরে থাক, কখনও তিনি কোন চরমপন্থাকে সমর্থন করবেন না।” হিজবুল্লাহকে তিনি ২০ বছর ধরে জানেন বলেও জানান আহমেদ। 

ইস্টার বোমা হামলার সময় থেকে মুসলিম বিরোধী মনোভাব তুঙ্গে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। 

পালাবদল/এসএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]