আইন-আদালত
মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি, অবশেষে রাত পৌনে ১টায় ডিবি কার্যালয় থেকে নুরকে ছাড়া হলো
মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি, অবশেষে রাত পৌনে ১টায় ডিবি কার্যালয় থেকে নুরকে ছাড়া হলো





নিজস্ব প্রতিবেদক
Monday, Sep 21, 2020, 10:09 pm
Update: 22.09.2020, 1:34:50 am
 @palabadalnet

নূরকে ছেড়ে দেওয়ার পর ডিবি কার্যালয়ের সামনে। ছবি: সংগৃহীত

নূরকে ছেড়ে দেওয়ার পর ডিবি কার্যালয়ের সামনে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা:  মুক্তি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি শেষে রাত পৌনে ১টার সময় ডিবির কার্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আকতার।

তিনি জানান, ডিবি অফিসে নেয়ার পর নুরের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। রাতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অসুস্থতার কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আটকের পর তার মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।  সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। কিন্তু এর আগে খবর পাওয়া যায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নুরকে নেয়া হলে তার মুক্তির বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

সোমবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে নুরসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে শাহবাগ থেকে তাদের আটক করা হয়। এর ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর এলেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

এর আগে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগী সোহরাবকে পৌঁছে দিতে ডিবির গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার রাতে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নুরকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। তাকে অফিসিয়ালি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সে অসুস্থ তাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ডিবির গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ডিএমপির একটি সূত্র রাত ১২টার দিকে  জানায়, ‘ছেড়ে দেওয়ার অফিসিয়াল ফর্মালিটির জন্যে নুরকে আবার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মুহম্মদ রাশেদ খান রাত সাড়ে ১২টায় বলেন, ‘ডিবির এডিসি নাজমুল জানিয়েছেন অফিসিয়াল প্রক্রিয়া শেষে নুরকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আমাদের কর্মীদের ডিবি কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়।’

রাতে নুরসহ চার জনকে ডিবি পুলিশ ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান বলে জানান ঢামেকের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘সাবেক ভিপি নুরসহ চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে ডিবি পুলিশ। নুরের বুকে, কোমরসহ কিছু স্থানে এক্সরে করা হয়েছে। তবে, তাদের অবস্থা ভালো। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার দরকার নেই।’

ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম  রাত সাড়ে ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বলেছিলেন, ‘ভিপি নুরসহ সাতজনকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।’

রমনা ডিভিশন পুলিশের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘তারা মৎস্য ভবনের সামনের রাস্তা অবরোধ করে এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়। এ কারণে, নুরসহ বাকিদের আটক করা হয়।’

রাত পৌনে ৯টার দিকে নুরুল হক নুরসহ সাত জনকে রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে রোববার নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি। গত ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।

রোববার রাতে নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ধর্ষণকারীকে সহযোগিতা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। রাজধানীর লালবাগ থানায় ওই মামলা করা হয়। মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী।

নুর ও মামুন ছাড়াও ওই মামলায় অপর আসামিরা হলেন- ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল বাকি।

এদিকে, মামলার এজাহারে বাদী নিজেকে প্রধান আসামি মামুনের বান্ধবী পরিচয় দিয়েছেন। তার অভিযোগ, হাসান আল মামুন তার একই বিভাগের সিনিয়র ছাত্র এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয়। তারা মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তার সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে মামুন তাকে লালবাগের বাসায় ডেকে নেয়। তিনি বাসায় গেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুন তাকে ধর্ষণ করে।

সাবেক ভিপি নুরসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী এজাহারে বলেছেন, ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১২ জানুয়ারি তাকে মামুন তার বন্ধু (২ নম্বর আসামি) সোহাগের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তখন তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সোহাগ বাধা দেয়। একপর্যায়ে তিনি যাতে হাসপাতালে থাকতে না পারেন, সে জন্য নানা অপচেষ্টা চালান। এর মধ্যে তিনি এক নম্বর আসামি মামুনকে বিয়ের চাপ দিলে সে বিয়ে করতে সম্মত হলেও পরে টালবাহানা শুরু করে।

বাদী বলেন, কোনো উপায় না দেখে গত ২০ জুন বিষয়টি নুরুল হক নুরকে (৩ নম্বর আসামি) মৌখিকভাবে জানালে তিনি বিষয়টির সুরাহা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। নুর তাকে নীলক্ষেতে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে মীমাংসার কথা এড়িয়ে তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেন। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নুর তার ভক্তদের দিয়ে উল্টাপাল্টা পোস্ট দেওয়াবেন বলেও হুমকি দেন। তাকে (বাদীকে) পতিতা বলে ছাত্র অধিকার পরিষদের লাখ লাখ মেম্বারের গ্রুপে প্রচার চালানোরও হুমকি দেন। তার একটি লাইভে সব সম্মান চলে যাবে বলেও তাকে শাসান। মামলার ৪ নম্বর আসামি সাইফুল তার (বাদী) নামে কুৎসা রটাতে ৫ নম্বর আসামি নাজমুল ও ৬ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ হিল বাকিকে দায়িত্ব দেয়। তারা মেসেঞ্জার গ্রুপে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে।

মামলার এজাহারে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে অভিযোগকারী ছাত্রী সমকালকে বলেন, পুরো ঘটনাটি ছাত্র অধিকার পরিষদের অনেকেই জানেন। অনেকেই মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বললেও তাকে ঘোরানো হচ্ছিল। মামুনও তাকে বিয়ের আশ্বাসে ঘুরাচ্ছিল। এ জন্যই তিনি বাধ্য হয়ে দেরিতে হলেও আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, এতে সহায়তা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]