রাজনীতি
খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করাই দলের মুখ্য বিষয়: ফখরুল
খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করাই দলের মুখ্য বিষয়: ফখরুল





নিজস্ব প্রতিবেদক
Wednesday, Feb 12, 2020, 3:59 pm
 @palabadalnet

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকা: অসুস্থ খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করাই দলের মুখ্য বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে দলের যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই যৌথ সভা হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে, জনগণের কাছে এখন মূখ্য বিষয়টা হচ্ছে যে, ম্যাডামের জীবনকে রক্ষা করা। কারণ এরা খুব সুপরিকল্পিতভাবে ম্যাডামকে হত্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাকে মুক্ত করতে চাই, তার জীবনকে বাঁচাতে চাই, তাকে সুস্থ করে জনগণের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্তি করার চেষ্টা করব- এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কাজ।”

গতকাল বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সলরের কাছে খালেদা জিয়ার প্যারেলো মুক্তির বিষয়ে ছোট ভাইয়ের আবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘এটা (প্যারোল) সম্পর্কে আমরা ঠিক বলতে পারবো না। কারণ এটা আমরা করিনি বা তার পরিবার থেকে প্যারেলো আবেদন করা হয়েছে সেটাও আমাদের জানা নেই।”

গতকাল বিকালে খালেদা জিয়ার সেজ বোন সেলিমা ইসলামসহ ৫ স্বজন বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। বেরিয়ে এসে সেলিমা ইসলামও সাংবাদিকদের কাছে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে মানবিক বিবেচনায় নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের অংশ হিসেবে আগামী শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে মিছিল করবে বেলা দুইটায়। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শেষ হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে।

‘মুক্তির বিষয়টি সরকারে কোর্টে’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমরা তার (খালেদা জিয়া)মুক্তির জন্য আইনের সবগু্লো বিষয় চেষ্টা করেছি, এখনো করে যাচ্ছি আইনগতভাবে। আমরা তো সব সময় দাবি জানাচ্ছি, আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেও জানাচ্ছি, আমরা হোম মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলেছি, পার্লামেন্টেও জানানো হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টাই সরকারের হাতে। দ্য বল ইজ ইন দেয়ার কোর্ট।”

‘‘আমরা একটা জিনিস খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে, এটা আইনের বিষয় নয়। তাকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটক করে রাখা হয়েছে। সুতরাং সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক হতে হবে অর্থাৎ দখলদার সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-এটা দেশনেত্রীকে জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক করে রাখবেন, না তাকে আপনার সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্যে পরিবেশ তৈরি করার জন্যে দেশনেত্রীকে মুক্তি দেবেন।”

খালেদা জিয়াকে ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’য় জামিন না দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘‘দেশনেত্রীর মামলা শেষ হয়ে যায়নি। এটা এখনো সাব-জুডিস আছে। অর্থাৎ আপিল পর্যায়ে আছে। এই ধরনের মামলায় যেকোনো ব্যক্তির একটা সাংবিধানিক অধিকার জামিন পাওয়া। এটা তার হক। সেই হক থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ধরনের মামলাতে একজন সাধারণ নাগরিকও সাত দিনের মধ্যে জামিন পান। কিন্তু উনাকে আজকে দুই বছর ধরে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এভাবে আটক করে রাখা হয়েছে বেআইনিভাবে।”

‘‘আজকে জনগণের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, এই ধরনের অন্যায়, এই ধরনের বেআইনি কাজ, এই ধরনের রাজনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার যে কৌশল সেগুলোকে নসাৎ করে দেয়ার জন্য জনগণকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সম্মিলিত ঐক্যের মধ্য দিয়ে, তাদের সোচ্চার হওয়ার মধ্য দিয়েই এই ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন-অন্যায়কে আমরা পরাজিত করতে সক্ষম হবো বলে আমি বিশ্বাস করি। জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাবেন এবং দেশনেত্রীর মুক্তির পথকে আরো তরান্বিত করবেন।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উ্ন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ঢাকা জেলার দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, নারায়নগঞ্জ এটিএম কামাল, মামুন মাহমুদ, খন্দকার আবু জাফর, গাজীপুর ছাইয়েদুল আলম বাবুল, শওকত হোসেন সরকার, সোহরাবউদ্দিন, মজিবুর রহমান, মানিকগঞ্জের জামিলুর রশীদ খান, এসএ জিন্নাহ কবির, টাঙ্গাইলের সাইদুল হক ছাদু, ফরহাদ রেজা, হান্নান মিয়া হান্নু, মুন্সিগঞ্জের কামরুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ছিলেন, মহানগরের আহসানউল্লাহ হাসান, এবিএম আবদুর রাজ্জাক, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]