রাজনীতি
প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে: ফখরুল
প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে: ফখরুল





নিজস্ব প্রতিবেদক
Tuesday, Jan 14, 2020, 2:57 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ১৬ দিন আগে মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ আজকে যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হচ্ছে, এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের ব্যাক গ্রাউন্ড কিন্তু আমরা জানি। কে গাড়ির অনুমোদন নেয়ার জন্য ফাইল বদল নিয়ে মন্ত্রীর কাছে গেছেন, কারা নিজের স্কুল পারমিশন নেয়ার জন্য সরকারি জমি নিয়েছেন-এসব খবর আমাদের কাছে আছে।”

‘‘তারপরে দেখা যাচ্ছে, এসব মানুষগুলোকে যাদের কোনো মোরালিটি নেই, তাদেরকে নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে  দিয়েই আবার নতুন যে যন্ত্র তৈরি করেছে ইভিএম মেশিন, যে মেশিন পৃথিবীর সমস্ত্র দেশে রিজেক্টটেড হয়ে যাচ্ছে, সেই মেশিন কখনোই ভোটারের যে ইচ্ছা, সে সেখানে ভোট দিতে যায় তার প্রতিফলন না ঘটানোর মতো যথেষ্ট কৌশল এর মধ্যে রয়েছে। এটাকে ম্যানুপুলেটেড করা যায়।”

ইভিএমের বিরোধিতা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা এর বিরেধিতা করেছি।  আমরা বলেছি যে, ইভিএম দিয়ে কখনোই মানুষের যে রায়, তার প্রতিফলন হবে না। আমরা এখনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর বিরোধিতা করছি।”

‘‘গতকাল চট্টগ্রামে উপ-নির্বাচন হয়েছে। যেতেই দেয়নি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদেরকে। তার আগে বোমা মেরে লাঠিসোটা দিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরে জিজ্ঞাসা করেন বলবে যে, আপনারা পারেননি। পারবো কোত্থেকে? যে গুন্ডা যে লাঠি মারে সন্ত্রাসী করে তার সঙ্গে ভদ্র লোকেরা সাধারণ মানুষেরা পারবে কোত্থেকে। দ্যাস দ্য রিয়েলিটি। যারা ভোটার তারা তো মারামারি করে না। তারা তাদের অধিকারটা প্রয়োগ করতে যায়, সেটা প্রয়োগ করতে দেয়া হয় না।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘তারা আজকে জনগণের ভোটারের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এমন একটা সমাজ তৈরি করছে, এমন একটা রাষ্ট্র তৈরি করছে যে সমাজ এবং রাষ্ট্র এদেশের মানুষের ভবিষ্যতকে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সেজন্য বলি যে, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত হতে চলেছে।”

‘‘তারপরও বলি, হতাশ হবেন না, ছেড়ে দেবেন না। নেভার গিভ আপ। যত কষ্ট আসুক, যত যন্ত্রণা আসুক, যত অত্যাচার লাঞ্ছনা আসুক এদেশের মানুষ বার বার উঠে দাঁড়িয়েছে, তরুণরা উঠে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছে। সব জায়গায় প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে  ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল’ এর উদ্যোগে বিগত আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হাতে গুম, হত্যা, পঙ্গু হওয়া নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে গুম হওয়া ১০ পরিবারের সদস্যদের হাতে শিক্ষা বৃত্তি হিসেবে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্তমানের সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনে চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘২০১০ সাল থেকে আমরা এই আক্রমণের শিকার হচ্ছি। আওয়ামী লীগ যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে সংগ্রাম করেছিল, গণতান্ত্রিক লড়াই করেছিল তারাই স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে দানবে পরিণত হয়েছে। একবার তারা ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। সেটা করতে যাওয়ার আগে তারা একইভাবে দেশপ্রেমিক হাজার হাজার তরুণ যুবককে হত্যা করেছে।”

‘‘২০০৮ সালের পরে তারা একইভাবে শুধু খোলসটা পাল্টিয়ে দিয়ে ভিন্ন আঙিকে তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে, নিজের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার জন্যে তারা সংবিধান সংশোধন করেছে। এই বাংলাদেশ সৃষ্টির যে চেতনা ছিল, মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা ছিল তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে দিয়েছে। তারা তাদের শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করবার জন্যে রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করছে। এমন একটা প্রতিষ্ঠান নেই যে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তারা বংশবদ করে ফেলেছে। এর মধ্যে যারা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন, রাজপথে নেমে এসেছিলেন তারা আজকে অনেকে আজকে আমাদের মাঝে নেই। তাদের অনেককে এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্স করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছেন আর খোঁজ নেই, গুম হয়ে গেছে। অনেককে হত্যা করা হয়েছে অথবা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোটা দেশকে গোটা জাতিকে একটা নির্যাতনের কারখানা তৈরি করে ফেলেছে।”

গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের ছোট ছোট সন্তানদের দিকে তাকিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, ‘‘আজকে শিশুরা এখানে আছে। ওরা প্রতিমুহুর্তে ভাবে যে, তার বাবা ফিরে আসবে, আসে না। মা আছেন, ভাবেন যে, এই বোধহয় ছেলে দরজা নক করলো, আসে না। স্ত্রী অপেক্ষা করে থাকে কখন তার প্রিয় মানুষটা পাশে আসবে।”

‘‘এই পরিস্থিতি একটা অসহনীয় একটা পরিবেশ, একটা দম বন্ধ করা একটা পরিবেশ। এই সমাজ আজকে কিভাবে এই ধরনের একটা পরিস্থিতি সহ্য করছে-এটাও একটা চিন্তার ব্যাপার। এরা সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নগুলোকে ছারখার করে দিয়েছে, তছনচ করে দিয়েছে। এজন্য তাদের দাম্ভিকতার শেষ নেই। তাদের কথা শুনবেন, তারা যে বক্তব্য রাখে, তারা যে কথা বলে, তার মধ্যে তাদের যে দাম্ভিকতা এটা প্রকাশ পায়। প্রতিমুহুর্তে এতো যে তারা নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে- এজন্য তাদের এতটুকু অনুতাপ পর্যন্ত কখনো হয় না। একনায়কদের, স্বৈরাচারদের কখনো অনুতাপ হয় না।”

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ‘সকলকে উঠে দাঁড়ানো’র আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

‘হত্যার মহা উৎসব চলছে’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘সরকারে যারা আছেন এরা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন। তারা বক্তৃতা যখন করেন মনে হয় যেন কিছুই হয়নি দেশে, চমৎকার পরিবেশ আছে, দেশের মানুষ খুব ভালো আছে। প্রতিদিন পত্রিকায় দেখবেন একটা হত্যার মহা উৎসব চলছে। আজকে একটা মারাত্মক খবর দেখলাম মহাসড়কে মানুষের শরীরের অংশ ছিটিয়ে ছিটিয়ে আছে।”

‘‘তিন/চার বছরের শিশুকে পর্যন্ত হত্যা করা হচ্ছে। এই যে হত্যা, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ যেন একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। মানুষ এখন আর কথা বলে না, কথা বলার সুযোগ নেই। এটাই চেয়েছিল ওরা (সরকার)। ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়ে পুরো ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা, সেটাই করেছে তারা।”

‘মিডিয়ার সেন্সরশিপ’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘আজকে সব জায়গায় ভয়। এই যে সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা আজকে এখানে খবর নিচ্ছেন, ছবি তুলেছেন তারা নিজেরাই সেন্সরশিপ আরোপ করছেন। তাদের ম্যানেজমেন্ট নিজেরাই করছেন। সরকার বলে তো বলেই কিন্তু তারা (মিডিয়া) নিজেরাই সেন্সরশীপ করেন-এটা দেয়া যাবেন না, এটা দেয়া যাবে না, এই খবর ছাপানো যাবে না।”

‘‘আজকে এই যে খবর নিতে আসছেন আপনারা। দেখা যাবে যে, এক কোণায় এইটুকু যাবে, এটাকে গুরুত্ব দেবে না। গুরুত্ব দেবে কাকে? ওবায়দুল কাদের সাহেব কিভাবে গালি-গালাজ করছেন এটাই পাবে গুরুত্ব। এখানেই তাদের ক্রাইমটা সবচেয়ে বড়। আওয়ামী লীগকে আমি দায়ী করি এজন্য যে, ওরা আমাদের সমাজটাকে নষ্ট করে দিয়েছে, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। এমন একটা সমাজ তারা তৈরি করেছে যে সমাজে মানুষ হতে পারবে না। আজ তারা যেটা করছে সেটা হচ্ছে, ক্রাইম এগেনেস্ট হিউমিনিটি, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে।”

সরকারের প্রতিহিংসায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কথাও বলেন তিনি।

সংগঠনটির সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য  এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শফিউল বারী বাবু, মামুন হাসান, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, হেল্প সেলের নাসির উদ্দিন শাওন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পালাবদল/এমএম



  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]