পরিবেশ
নিরব এলাকা ঘোষণার পরও সচিবালয়ের আশে পাশে শব্দদূষণের বেড়েছে
নিরব এলাকা ঘোষণার পরও সচিবালয়ের আশে পাশে শব্দদূষণের বেড়েছে





নিজস্ব প্রতিবেদক
Friday, Jan 10, 2020, 10:15 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: নিরব এলাকা ঘোষণার পরও সচিবালয় ও তার আশে পাশে এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা আরো বেড়েছে।  এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা কখনই ৫০ ডেসিবল এর নিচে ছিল না।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকায় ‘তীব্র শব্দ দূষণের কবলে ঢাকাবাসী-শীর্ষক শব্দ দূষণ বিষয়ক একটি গবেষণালব্ধ ফলাফল’ প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানানো হয়। 

বাপা ও ক্যাপস, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে বাপা’র নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপত্বিতে এবং বাপা'র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক এবং স্টামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। 

এতে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভিসি অধ্যাপক স্থপতি মুহাম্মাদ আলী নকী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহা পরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমী। এছাড়াও এতে উপস্থিতি ছিলেন বাপা'র নির্বাহী সদস্য ইবনুল সাইদ রানা এবং জাতীয় কমিটির সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, স্টামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) পক্ষ হতে সচিবালয় এলাকাকে নিরব ঘোষণার আগে ও পরে অর্থাৎ গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৯ দিনে সয়ংক্রিয় সাউন্ড লেভেল মিটারের সাহায্যে ১২টি স্থানের প্রতিটিতে দিনব্যাপী ৩০০ সংখ্যক উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, সচিবালয় এলাকায় দিনের বেলায় ৫০ ডেসিবল শব্দ থাকার কথা ছিল। তবে তথ্য উপাত্ত বিষ্লেষণে পর দেখা যায় যে, দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা কখনই ৫০ ডেসিবল এর নিচে ছিল না। ১২ টি স্থানের প্রতিটিতে দিনের বেলায় ১০০ ভাগ সময় নীরব এলাকার জন্য প্রযোজ্য মানমাত্রার (৫০ ডেসিবল) চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ ছিল। ১২ টি স্থানের মধ্যে একটি ব্যতীত (সচিবালয়ের পশ্চিমে মসজিদ সংলগ্ন) সবগুলোতেই ৭০ ভাগ এর বেশি সময় ধরে ৭০ ডেসিবেল (তীব্রতর) এর বেশি শব্দের মাত্রা ছিল। সামগ্রিকভাবে বারটি স্থানে সম্মিলিতভাবে ৯১.৯৯ ভাগ সময় ৭০ ডেসিবেল (তীব্রতর) এর বেশি শব্দের মাত্রা ছিল। সর্বোচ্চ সময় ধরে যে তিনটি স্থানে শব্দের মাত্রা বেশি ছিল সেগুলো হলো- পল্টন বাস স্ট্যান্ড এ ১০০ ভাগ সময়, জিরো পয়েন্ট এ ৯৯.৪ ভাগ সময় এবং কদম ফোয়ারা-এ ৯৯.২ ভাগ সময় শব্দের মাত্রা ৭০ ডেসিবেল এর বেশি ছিল। এছাড়াও ক্যাপস এর গবেষণা দল ঢাকা শহরে ৭০ টি এলাকায় শব্দ দূষণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। 

গবেষণায় দেখা যায় যে, নিরব, আবাসিক ও মিশ্র এলাকার ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ১০০ ভাগ সময় আদর্শ মানের উপরে ছিল (নীরব এলাকার আদর্শমান ৫০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকার আদর্শমান ৫৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকার আদর্শমান ৬০ ডেসিবেল)। বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দের মাত্রা আদর্শ মানের চেয়ে ৯৭.৫৮ ভাগ সময় বেশী মাত্রায় ছিল (বাণিজ্যিক এলাকার আদর্শমান ৭০ ডেসিবেল)। শিল্প এলাকায় শব্দের মাত্রা আদর্শ মানের চেয়ে ৭১.৭৫ ভাগ সময় বেশী মাত্রায় ছিল (শিল্প এলাকার আদর্শমান ৭৫ ডেসিবেল)।

এ ব্যাপারে ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই গাড়িতে ৩টি হর্ণ ব্যবহার করেন, যার মধ্যে একটি হাইড্রোলিক হর্ণ। এ সমস্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই যখন আইনের তোয়াক্কা করে না তখন সাধারণ ট্রাক, বাস চালকরা কিভাবে আইন মানবে। সর্ব প্রথম সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শব্দ দূষণ বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি স্থপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহকে এই ধরণের জাতীয় গণগুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সমন্বিতভাবে পরিবেশ বিষয়ক কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। 

শরীফ জামিল বলেন, নীতি নির্ধারকদের মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনা নির্মোহ বিজ্ঞান ভিত্তিক ও অংশগ্রহণ মূলকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি আরো বলেন শব্দ দূষণের কারণে স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়েও বেশি, তাই একে বিশেষগুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমী বলেন, শব্দ দূষণ রোধে জনসচেতনা তৈরি করতে হবে শুধু আইন করেই যথেষ্ট হবে না।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]