রাজনীতি
বিএনপি এমপিদের পদত্যাগ চান গয়েশ্বর
বিএনপি এমপিদের পদত্যাগ চান গয়েশ্বর





নিজস্ব প্রতিবেদক
Monday, Dec 9, 2019, 10:37 pm
Update: 09.12.2019, 10:42:10 pm
 @palabadalnet

ঢা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ফাইল ছবি

কা: একাদশ সংসদে থেকে দলীয় এমপিদের পদত্যাগ চান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘২৯ তারিখের অবৈধ ফসলই আজকের পার্লামেন্ট। রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে যদি আমরা পার্লামেন্টে যোগ দিয়ে থাকি, তাহলে আজকে আমাদের দায়িত্ব- যারা আমাদের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে আছেন, গুটি কয়েক যে ক‘জনই হোক তাদের সর্বপ্রথম পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করে এই জনগনের আন্দোলনে, সরকার পতনের আন্দোলনে যুক্ত হওয়া। সরকারেও থাকবো, পার্লামেন্টেও থাকবো, আবার সরকার পতনও চাইব-এই কৌশলটা কিন্তু জনগণ পছন্দ করবে না। অর্থাত আমরা যা চাই-সেটা মিন করতে হবে। আমাদের ডিটারমিনেশনটা জনগণের কাছে সুস্পষ্ট করতে হবে যে, আসলে আমরা সরকারের পতন চাই। তখন জনগনের আস্থা-সমর্থন দেয়ার জন্য আপনার পাশে দাঁড়াবে।”

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘যতক্ষণ আমাদের রাজনীতি ও আমাদের লক্ষ্য এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথ পরিস্কারভাবে জনগনের কাছে উপস্থাপন না করব আমি ততক্ষন পর্যন্ত কোনো আন্দোলনই দানা বেঁধে উঠবে না।”

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘আজকে রুম্পা(রুবাইয়েত শারমিন রুম্পা) নিহত, আত্মহত্যা, ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে-অস্পষ্ট। কিন্তু রুম্পা মারা গেছে- এটা তো স্পষ্ট। তাহলে এভা্বে রুম্পারা কতকাল মরবে?একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একেবারে ছোট কর্মকর্তা না, পুলিশ ইন্সেপেক্টরের মেয়ে- তার আজকে জীবন বিপন্ন।”

অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর কর্মকান্ড সকলের কাছে দৃশ্যমান, আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কাছেও দৃশ্যমান। আজকে ক্ষমতাসীনরা তার(নিপুণ রায় চৌধুরী) বিরুদ্ধে নির্যাতনের নীল নকশা আমরা লক্ষ্য করছি। যে কারণেই আজকে তিনি এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়েছেন। একটি কথা সরকারকে বলব, এক নিপুণের মুখ বন্ধ করলেও সব নিপুণের রায় মুখ থাকবে। এখন এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায়, এই সমাজ ব্যবস্থায় মাঝে নিপুণ কিন্তু এখন একটা না, প্রতি ঘরে ঘরে নিপুণরা জন্ম নিয়েছে, সময়মতো সকল নিপুণ একসঙ্গে থাকবে।”

সরকারের দমনপীড়নের সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘‘ ঘরে ঘরে আজকে পরিবর্তনের আওয়াজ উঠেছে। সুপ্ত চেতনাবোধ মানুষের দিকে তাঁকালে অনুমান করা যাচ্ছে- সবাই আশাবাদী একটা পরিবর্তন হবে, পরিবর্তন অনিবার্য় হয়ে পড়েছে। সেই পরিবর্তন আপনি(সরকার) কিভাবে আটকাবেন। আজকে প্রশ্ন বেগম খালেদা জিয়া কতকাল কারাবন্দি থাকবেন। না, দীর্ঘকাল নয়। আজকে যারা ভাবেন যে, খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করে গণতন্ত্রকে নিশংস্বরূপে হত্যা করার ক্ষমতা রাখেন।”

‘‘কারণ চেতনার যখন বিপ্লব ঘটে তখন ব্যক্তির কোনো বিষয়বস্তু থাকে না। যদি থাকতো একাত্তর সালের ২৫ মার্চ শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি কারাগারে আটক করা হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিন্তু থেমে থাকে নাই। মানুষের আকাংখার সাথে সঙ্গতি রেখে সেদিন অজ্ঞাত মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ডাকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ সকল পেশার লোকেরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আজকে তেমনি একটা অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি একটি অবস্থা লক্ষ্য করছি। সুতরাং কখন কোনো অজ্ঞাত জায়গা থেকে কে ডাক দেবে তার পরিচয় কেউ জানতে চাইবে না। কারণ পরিবর্তনে ডাক যিনি দেবেন তিনি আগামী দিনে রাজপথে নেতা হবে। খালেদা জিয়া কারাঘারে থাকলেও সরকারের পতন অনিবার্য।”

তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে আমরা দেখেছি সকল পেশা বিশেষ করে সরকারি সরকারি যারা চাকরি করতে তারাও চাকুরি ইসতফা দিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, যারা সামরিক বাহিনীতে ছিলেন তারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, পুলিশের জোয়ানরা তারা চাকরি ছেড়ে যুদ্ধে নেমেছেন, আনসার নেমেছেন। আজকে সেই সময়ে এসেছে। মনে হয় একাত্তরের মতো একটি আজকে চেতনাবোধ জেগে উঠবে জনগনের অন্তরের মধ্যে। আজকে গণতন্ত্রের অবস্থা ইলিয়াস আলীর মতো। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ, ইলিয়াস আলী গুম, ইলিয়াস আলী মৃত না জীবিত- আমরা জানি না। ঠিক একইভাবে ইলিয়াস আলীর মতো গণতন্ত্রকে গুম করা হয়েছে। এই গুম হওয়া গণতন্ত্রকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, সেই গণতন্ত্রকে মানুষের মাঝে দৃশ্যমান করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিজয়ের এই মাসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে।”

জাতীয় পতাকা দিয়ে পোশাক-পরিচ্ছেদ করার কঠোর সমালোচনা করেন গয়েশ্বর।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী দুইজন ভারতীয় স্টার নিয়ে কালকে নামলেন এই বিজয়ের মাসে, খেলা উদ্বোধন করলেন। তারপরে তিনি কি দেখালেন জনগনকে? যা দেখালেন তা সবাই আলাপ করলেন।”

তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীর এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে, কোনো সভ্য-অসভ্য দেশ যেখান ধর্ষনের সেঞ্চুরি পালন হয় প্রকাশ্যে। পৃথিবীতে এমন কোনো সরকার পাওয়া যাবে যার আমলে ধর্ষনের সেঞ্চুরি পালন হয়। সেটার নাম বাংলাদেশ, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। ধর্ষণের সেঞ্চরিপালন হয়েছিলো ১৯৯৬ সালের সরকারের সময়ে। এখন যদি হিসাব করা হয় ধর্ষণ শচিন টেন্ডুলকারের ট্রিপল সেঞ্চুরির মতো অবস্থায় এসেছে। হয়ত ধর্ষনের ট্রিপল সেঞ্চরি পালন হচ্ছে এই সরকারের সময়ে। বিচিত্র কিছু না।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘আর কতকাল বন্দি থাকবে খালেদা জিয়া, নির্দয়ভাবে কত মরবে রুবায়েত শারমিন রুম্পারা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

ফোরামের আহবায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য বিলকিস ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ নেছারুল হক, এনডিপির আবু তাহের প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, অনিন্দ্র্য ইসলাম অমিত, রফিকুল ইসলাম, মাশুকুর রহমান মাশুক, লায়লা বেগম, রাশেদ বেগম মুক্তা, নজরুল ইসলাম তালুকদার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]