প্রতিরক্ষা
ভারতের অশুভ পরমাণু আচরণ
ভারতের অশুভ পরমাণু আচরণ





পালাবদল ডেস্ক
Friday, Dec 6, 2019, 12:04 pm
 @palabadalnet

সময়োচিত, আনুপাতিক, যথাযথ ও দ্ব্যর্থহীন স্থিরসংকল্প-সংবলিত রাজনীতি ইন্দো-পাক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পরমাণু ইঙ্গিতের অব্যাহত অবয়বের প্রতিনিধিত্ব করে। যতটুকু দেখা গেছে, তা হলো এই যে কৌশলগত সংযম বিচক্ষণভাবে ও স্থায়ীভাবে রাজনীতি ও যুদ্ধের মধ্যকার বিশেষ কানেকটিভিটি পুনঃসজ্ঞায়িত করেছে। অবশ্য এটি ধাঁধারও সৃষ্টি করে। একে অপরের দিকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সীমা হ্রাস করার ফলে হুমকির শঙ্কা বাড়ছে। তরল আর জটিল বিতর্কের সহজাত অস্পষ্টতার মাধ্যমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা চালানো হয় ভয়, সম্মান আর আগ্রহ সৃষ্টির জন্য। ভীতি প্রদর্শনমূলক অস্ত্র বিশেষ করে ভারতের জাতীয়তাবাদী প্রাধান্য সৃষ্টির সাথে প্রাসঙ্গিক। অন্য দিকে ভারতীয় বাহিনী ভীতি প্রদর্শন করার পাশাপাশি দক্ষতার সাথে জাতীয় শক্তির চারটি উপাদান তথা কূটনীতি, অর্থনীতি, প্রচলিত ও পরমাণু সক্ষমতা যে অকল্পনীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারে ভারতের পরমাণু মতবাদ সম্পর্কে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার সূচনা করেছিল দেশটির স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ড (আইএসএফ)। এতে প্রথমে ব্যবহার না করার ঘোষিত পরমাণু মতবাদ (এনএফইউ) পরিবর্তন করে বিপুল প্রতিশোধ গ্রহণের ওপর জোর দেয়া হয়। নমনীয় ও সীমিত পরমাণু প্রতিক্রিয়ার বদলে আরো প্রবলভাবে মৃত্যুর ঘণ্টা বাজানোর নীতি গ্রহণ করা হয়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুঁশিয়ারি, নন-স্টেট ঘাঁটিতে হামলা এবং সেইসাথে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভৌগোলিক পরিচিতি লঙ্ঘন (যা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রদর্শন করা হয়েছিল) নিশ্চিতভাবেই অনিশ্চিত নিরাপত্তামূলক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে টার্গেট করে যেসব হুমকি দেয়া হচ্ছে, সেগুলো কি কেবলই ফাঁকা বুলি হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে?
 
সম্প্রতি ঘোষিত জয়েন্ট ডকট্রিন ফর দি ইন্ডিয়ান আর্মড ফোর্সেস (জেডিআইএএফ) প্রণীত হয়েছে সাইবার ও তথ্য যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চীনা হুমকি পুরোপুরি মোকাবিলার জন্য। তাছাড়া ভারতের একটি ‘ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরক্ষা কৌশলের’ প্রাথমিক মতবাদের খসড়া প্রণয়নে সহায়তা করবে এটি। মতবাদটি সুস্পষ্টভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে সীমান্ত হুমকি মোকাবিলার ভারতীয় সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর (জেপি-১) অনুরূপ এই মতবাদে তিন বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। জেডিআইএএফ ও এলডব্লিউডি উভয়টিই কঠোর এবং পাকিস্তানকে ভয় দেখানোর লক্ষ্যে তৈরী করা হয়েছে। ভারত বিশ্বাস করে যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস প্রতিরোধে প্রচলিত বিকল্পগুলো সীমিত। ফলে ভয়ঙ্কর ও তীব্রতা সত্ত্বেও দ্ব্যর্থবোধকতা, অনিশ্চয়তা, বজায় রাখার জন্য ভিন্ন কোনো নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।  জেডিআইএএফ তিন সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমগত একীভূত করার দরকার। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ঘোষিত জেডিআইএএফ-১৭ হলো মতবাদটির দ্বিতীয় সংস্করণ। এটি প্রণীত হয়েছে বিদেশে ভারতের অভিযান পরিচালনার জন্য। তবে জেডিআইএএফ পরমাণু বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। আর তা হতে পারে ‘পরমাণু অস্ত্রের প্রথমে ব্যবহার বা প্রথমে ব্যবহার না করার’ দ্ব্যর্থবোধকতার কারণে। একইভাবে এলডব্লিউডি ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষার্ধে। এতে ভারতীয় কৌশলগত চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এতে।

জেডিআইএএফ ও এলডব্লিউডি উভয়েই যেকোনো সময় অ্যাডভেঞ্জারে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনাযুক্ত। ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তাগত দোটানা, প্রচলিত শক্তির অসামঞ্জস্যতা, প্রচলিত ও কৌশলগত অস্ত্র প্রতিযোগিতা, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান, আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক পরমাণু সামর্থ্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের অস্তিত্বহীনতার ফলে সঙ্ঘাতের হুমকি বেড়েছে। এমনকি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সঙ্ঘাতের সূচনার আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাজেডি অব গ্রেট পাওয়ার পলিটিক্সে জন জে মারশেমার বলেছেন, রাষ্ট্রগুলো কোনো পরিমাণ ক্ষমতাতেই সন্তুষ্ট থাকে না, তারা নিরাপত্তার শ্রেষ্ঠত্ব কামনা করে। একইভাবে কার্ল ভন ক্লুসেভিজ কৌশলকে বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আবার অপারেশন, গোয়েন্দাবৃত্তি, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কার্যক্রমগত পরিস্থিতি বলছে যে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আবার কৌশলগত ভারসাম্যের নতুন ধারা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ সৃষ্টি করছে। পুলওয়ামায় পাকিস্তান স্পষ্টভাবেই প্রচলিত যুদ্ধে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে দীর্ঘ দিনের মিথ ভেঙে দিয়েছে। একইসাথে এটি সংস্পর্শহীন যুদ্ধ সক্ষমতা প্রশ্নে নতুন করে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করছে পাকিস্তানকে। যাই হোক, যুদ্ধ/সঙ্ঘাতের রাজনৈতিক প্রকৃতি এবং সামরিক শক্তির ব্যবহার এখনো প্রাধান্য বিস্তার করে আছে, যা ভারতীয় পরমাণু আচরণকে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মানসিকতায় বিশেষভাবে বিপজ্জনক করে তুলবে। সূত্র: মডার্ন ডিপ্লোমেসি

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]