শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
রাজনীতি
ক্ষমতাসীনরা ‘টাকা বানানো’র রোগে আক্রান্ত: ফখরুল
ক্ষমতাসীনরা ‘টাকা বানানো’র রোগে আক্রান্ত: ফখরুল





নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunday, Dec 1, 2019, 4:05 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: ক্ষমতাসীনরা ‘টাকা বানানো’র রোগে আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ দুপুরে এক সেমিনারে সভায় দলের মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সেমিনার কক্ষে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে এই সেমিনার হয়।

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টাকা বানানো নাকি একটা ব্যাধি বা রোগ। সেই রোগে তো আপনারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে গেছেন। আপনার সোনার ছেলেরা তাদেরকে এখন ধরে ধরে আনছেন, তাদেরকে বলার চেষ্টা করছেন-তোমরা এখন ভালো হয়ে যাও।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আজকে বলা হচ্ছে- রোল মডেল বাংলাদেশ। কিসের ? এই রোল মডেল-এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, তা হচ্ছে- সন্ত্রাসের রোল মডেল, নারী-শিশু ধর্ষনের রোল মডেল, দুর্নীতির রোল মডেল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাঁচার করে দিচ্ছে-এটা আমার কথা নয়। গ্লোভাল ইনট্রিগ্রিটি যে ফোরাম আছে, তারা কিছুদিন আগে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে চলে যাচ্ছে, শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে গেছে। মেগা প্রজেক্ট কিছুক্ষন আগে শুনলেন- ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট চলে গেছে ৫০ হাজার কোটি টাকাতে । তারপরেও ২২/২৩টা মাত্র স্পেন বসেছে। সর্বত্র, সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি।”

এই অবস্থার পরিবর্তনে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই একটা দেশে, এই একটা পরিবেশে আমরা আছি। এটাকে ভেঙে ফেলতে হবে, এটাকে ভেঙে নতুন সমাজ, নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। আমাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে, আমরা বৃদ্ধ। আমাদের সময় আমরা নতুন তৈরি ছিলাম একটা দেশ। আজকে আমাদের তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, যুবকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের ওপর দায়িত্ব এসে পড়েছে যে, এই মনোস্টার বা দানব যে আমাদের সমস্ত অর্জনকে তচনচ করে দিচ্ছে, স্বপ্নগুলোকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে, আমার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে ফেলেছে তাদের সরাতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্ত দলমত নির্বিশেষ রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। এটাই একমাত্র পথ। অনেকে হতাশার কথা বলেন। হতাশা শেষ কথা নয়। মনে রাখতে হবে প্রতি রাতের পরেই হবে নতুন সূর‌য়দয়।”

‘বিদেশে নারী শ্রমিক নির্যাতন প্রসঙ্গে’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘আমাদের নারীরা কাজ করবেন মর্যাদার সঙ্গে, মর্যাদাহানী করে কাজ করবেন এটা আমরা কখনো মেনে নিতে পারি না। আজকে অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে শুনি, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন যে, এটা তো একটা সাধারণ ব্যাপার ৫৫ জন। এই যে একটা মানসিকতা, এই মানসিকতাটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর মানসিকতা।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রায় মনে হয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে খুব মিল হয়, গ্রামের যে জোদ্দার জাতীয় কিছু লোক থাকেন, ভীষন রকমের দুষ্ট বুদ্ধি থাকে আর মানুষকে এরা শুধু হয়রানি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে। আওয়ামী লীগের সাথে তাদের খুব মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এরা হীনমন্যলোক হয় এবং বেশিরভাগকে দেখবেন এরা গলাবাজি খুব বেশি করবে। চায়ের দোকানে ঢুকলে বুঝতে পারবেন এখানে আছে টেবিল তাপড়াচ্ছে।”

‘গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলেছে। আজকে বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করে ফেলেছে, আজকে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। গণমাধ্যম যেটা গণতন্ত্রের প্রধান বিবেক হিসেবে কাজ করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। গতকাল আমি একজন খ্যাতিমান সম্পাদকের সাথে কথা বলছিলাম। তো অনেক কথার পরে আমি বললাম কেমন আছেন? এখন চাপ কেমন পড়ছে? বললেন, আমরা এখন নিজেরাই চাপ সৃষ্টি করছি। কথাটা বুঝতে পেরেছেন। এখন সেলফ সেন্সরশিপ করছি। উপায় নেই, নাহলে টিকতে পারবো না। এই হচ্ছে অবস্থা। তাহলে মানুষ কোথায় যাবে, কোন দিকে যাবে।”

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তথ্যমন্ত্রী সাহেব গতকাল বলেছেন যে, জিয়াউর রহমান সাহেব উনি সুযোগে পেয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং জিয়া‌উর রহমান নাকি টেন্ডার দিয়ে রাজনীতিবিদদের নিয়ে এসেছিলেন, তারপরে তাদেরকে নাকি মন্ত্রণালয়-টন্ত্রণালয় দিয়ে সেভাবে দেশ চালিয়েছেন। এটা আমাকে কিছুটা আঘাত করলো বলে আমি গুগলে তার (তথ্যমন্ত্রী) প্রোফাইলটা বের করলাম- ভদ্রলোকের জন্ম কবে? দেখলাম ১৯৬৩ সাল। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে তখন তার …। জিয়াউর রহমান কী ছিলেন, কখন এসেছেন, কী অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষের পরিণত হয়েছিলেন-এটা তো তার জানার কথা নয়।”

সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘রুনি আমার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হন। রুনি যে দিন নিহত হলেন সেদিন ছুটে গিয়েছিলাম বাসায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চারদিক ঘিরে ফেললো এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি ঘুরে এসে বললেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীকে ধরা হবে।আজকে আট বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যার কোনো সুরাহা হয়নি।”

ফখরুল বলেন, ‘‘সবচেয়ে দুঃখের কথা এখানে সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন, যেহেতু সাগর-রুনি অত্যন্ত খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন. তাদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন যৌথভাবে অর্থাৎ সেখানে আর বিভক্তি ছিল না। সব সাংবাদিক এক হয়ে আন্দোলন শুরু করলেন। বেশ জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এরপর হঠাতৎদেখা গেলো একদিন বিভক্ত হয়ে গেল, একটি গ্রুপ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ালেন। আরেক দল কিছুদিন চিৎকার করে করে ক্লান্ত হয়ে গেল। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ তারা এই সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে, সমাজকে পুরোপুরিভাবে দূষিত করে ফেলেছে।”

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘বেগম জিয়ার একজন জাতীয় নেত্রী, তিনি নারী নেত্রী। কী নির্যাতনটা হচ্ছে দেখছেন? রাজনীতির কথা বাদ দেন, আমি মনে করি এটি বড় অন্যায়। এতো বয়সী, এতো অসুস্থ তারপরেও কেউ কেউ পাশবিক আনন্দ পায়। কিছু কিছু লোক আছে- অন্যের কষ্ট দেখে ভালো লাগে। মনে হয় বেগম জিয়া যত কষ্ট পাচ্ছেন তত বেশি প্রাণভরে ভেতরে ভেতরে হাসছেন। হয়তো টেলিভিশনে হাসেন না, আমরা দেখতে পারছি না। এই রকম পৈশাচিক আনন্দ যারা পান তাদের বিরুদ্ধে একসাথে সবাইলে মিলে দাঁড়াতে যদি পারেন তবে তো নারী।”

তিনি বলেন, ‘‘আস্তে আস্তে অনেক কিছু বদলায়, সারা পৃথিবী বদলায়। বাংলাদেশ এখানে থাকবে কেনো? এখন বদলাবার জন্যে আপনারা কী তৈরি হচ্ছেন? যুগে যুগে তাই হয়েছে। অত্যাচারের সীমা আছে, নির্যাতনের সীমা আছে, গায়ের জোরে দখলদারিত্বে করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখারও একটা সীমা আছে। ওই সীমা পার হবার সময়, পড়ে যাওয়ার সময়। এখন আমাদের দাঁড়াতে হবে। এদিকে নারীরা দাঁড়াবে, আরেকদিকে কর্মচারিরা দাঁড়াবে, শ্রমিক দাঁড়াবে, সব পেশার মানুষরা দাঁড়াবে। একসাথে কোনো এক সময়ে সমস্ত রাজপথ আমাদেরই হবে। এটাই আমাদের দরকার। সেজন্য আমাদেরই প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার এখন। এই বিজয়ের মাসে আমরা সেই বিজয়ের ঘণ্টা বাজাতে চাই।”

সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, আবদুস সালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম,  হারুনুর রশীদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামসুল আলম প্রামানিক, বিলকিস ইসলাম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফরিদা ইয়াসমীন, নুরজাহান মাহবুব, আনোয়ার হোসেইন, খন্দকার আবু আশফাক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]