বুধবার ২২ জানুয়ারি ২০২০ ৯ মাঘ ১৪২৬
 
সারাবাংলা
বগুড়ার শেরপুরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা
বগুড়ার শেরপুরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা





মোঃ আকরাম হোসাইন, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
Thursday, Nov 28, 2019, 9:19 pm
Update: 28.11.2019, 9:20:20 pm
 @palabadalnet

শেরপুর (বগুড়া): শীতের দিনের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর (মধুরসের) গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েশ, খেজুরের রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু শীতের আমেজ। প্রাচীন কাল থেকে খেজুর গুড়ের জন্য বাংলাদেশ বিখ্যাত। এজন্য একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে বাংদেশের যশ, খেজুরের রস । দিন বদলের সাথে সাথে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড়-পাটালি তৈরি পদ্ধতি। শীত মৌসুমের আগমনে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রাথমিকভাবে গাছের আগাছা পরিষ্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বগুড়ার শেরপুরে মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকড়খোলা, হাতিগাড়া, রাজারদীঘী, চৌকান্দী, দাউদখা গ্রামে ইতোমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ তোলা চাচার (মাথা পরিস্কার) কাজ শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতিক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব।

গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েশ, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে কাঁচা রস খেতে খুবই মজাদার  এবং সন্ধায় খেজুর গুরের ভাবা পিঠা খেতে খুব মজাদার। রসে ভেজা কাচি খোসা পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। খেজুর রসের দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন অর্ধ ভোজন। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই। খেজুররে গুড়ের ঐতিহ্যবাহী-পাটালির ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বৃটিশ আমলে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরি করা হতো। এই চিনি ‘ব্রাউন সুগার’ নামে পরিচিত ছিল। খেজুরের রস থেকে উন্নতমানের মদও তৈরি করা হতো। এই চিনি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালান যেত। 

১৮৯০ সালের দিকে আখ থেকে সাদা চিনি উৎপাদন শুরু হলে খেজুর গুড় থেকে তৈরি চিনির উৎপাদনে ধস নামে। একে একে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। খেজুরের গুড় থেকে চিনি তৈরি না হলেও এখন পর্যন্ত খেজুর গুড়-পাটালির কদর কমেনি। তবে বিজ্ঞানের এই যুগে এখনো রস থেকে গুড়-পাটালি তৈরিতে পুরনো আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গুড়-পাটালি তৈরিতে আধুনিকতা আনা গেলে এটিও রফতানি পণ্যের তালিকায় স্থান পেত বলে মনে করেন চাষিরা। অবশ্য খেজুর গাছ অন্যান্য গাছের মতো রোপণ করা বা সার মাটি দিতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা খেজুরের আটি (বিচি) থেকে চারা জন্মায়। বর্তমান খেজুর গাছ ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় আগের থেকে এখন গুড়, পাটালির উৎপাদন বহুলাংশে কমে গেছে।

এখন আর আগের মতো মাঠ ভরা খেজুর গাছ নেই, নেই মাঠে মাঠে রস জ্বালানো চুলা। যা আছে তা নিতান্তই কম। পর্যাপ্ত নলেন গুড়, পাটালি পাওয়া দুষ্কর। মৌসুমে যা তৈরি হয় তা রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। 

আবহমান কাল থেকে তাই বাংলায় নবান্নের উৎসব পালনে খেজুর গুড়ের কদর বেশি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে গাছিরা গাছ পরিষ্কার বা তোলা চাচার উপকরণ গাছি দা, দড়ি তৈরি সহ ভাঁড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো জায়গা ঠিক করা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্তসময় পার করছেন। তবে খেজুর গাছ সংগ্রহ বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে। সরকারিভাবে গাছের চারা রোপন করে গাছ সংগ্রহ না করলে এক সময় খেজুর গাছ পরবর্তি প্রজন্মের কাছে শুধু আরব্য উপন্যসের গল্পে পরিণত হবে।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]