শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
পরিবেশ
বন-পাহাড়-সমুদ্র বিনষ্টের দিকেই এগুচ্ছে সরকার: সুলতানা কামাল
বন-পাহাড়-সমুদ্র বিনষ্টের দিকেই এগুচ্ছে সরকার: সুলতানা কামাল





নিজস্ব প্রতিবেদক
Friday, Nov 22, 2019, 5:31 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: বাপা’র নতুন সভাপতি বিশিষ্ট মানবাধীকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, বন-পাহাড়-সমুদ্র - সর্বপরি পরিবেশের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলোকে বিনষ্টের দিকেই সরকার এগুতে চাচ্ছে। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আজ (২২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

সুলতানা কামাল আরো বলেন, উন্নয়নের নামে এ স্পর্শকাতর যায়গাগুলোকেই কেন বার বার বেছে নেয়া হচ্ছে? আমরা কখনো উন্নয়নের বিমুখ নই। কিন্তু সে উন্নয়ন হতে হবে সুপরিকল্পিত এবং পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি না করে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে। আমরা এ দেশটাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূষণের দেশ হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা কক্সবাজার এবং মহেশখালীকে বাঁচাতে চাই।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তন ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প-গুচ্ছ স্থাপনের পরিকল্পনা: ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাপা’র নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন এতে সঞ্চালনা করেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল। 

এতে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শারমীন মুরশিদ, বাপা কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চেীধুরী, মহেশখালী শাখার সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক প্রমূখ। উপস্থিত ছিলেন, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ন কবির সমুন, অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বাপা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে ড. মাহবুব হোসেন, এম এস সিদ্দিকী, ইবনুল সাঈদ রানা প্রমুখ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কথাগুলো বলছি দেয়ালের সাথে, আর সেই দেয়ালটি হচ্ছে সরকার। সরকার তার অবস্থানে অনড়, আর দেশবাসী তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছে। চীন, জাপান এবং ভারত তাদের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারকে পরিবেশ বিধ্বংসী এ প্রকল্পগুলো এদেশে করতে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে। সরকার এবং ইনভেস্টরদের মধ্যে একটা বিরাট সিন্ডিকেট চক্র তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এ প্রকল্পগুলো করছে। আমরা এ ধরণের উন্নয়ন চাই না যেটা একটা দোজখে পরিণত হবে।

শরীফ জামিল তার লিখিত বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ২৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৭ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট (মে.ও.) বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম ১৭টি প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আজ মানুষ, পারিপার্শ্বিক জীববৈচিত্র্য,সামুদ্রিক অভয়ারণ্য, পাহাড়ি বনাঞ্চল, ভূ-প্রকৃতি, সমুদ্রসৈকত এবং বিস্তৃত কৃষিজমির জন্য হুমকিস্বরূপ প্রতীয়মান। কেননা পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মূল শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে উল্লেখিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন সবকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান। সিংহভাগ বিদেশী অর্থায়নে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় ইতোপূর্বে প্রকাশ করা হয়নি এমন তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। এই গবেষণার প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে জমি অধিগ্রহণ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণের কারণে পরিবেশের কী ভয়াবহ বিপর্যয় সাধিত হবে এবং এ জন্য কতটা চড়া মূল্য দিতে হবে সেই তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশ করা। 

তিনি বলেন, বাপা এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর মতো বড় আকারের পরিকাঠামো নির্মাণের আগে অবিলম্বে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) ও পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করার দাবি জানায়। তিনি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ যেকোনো ধরনের বৃহৎশিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে ব্যাপক, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করার দাবি জানায়। 

শারমীন মুরশিদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিভিন্ন চুক্তির সাথে জড়িত- প্যারিস চুক্তি, এসডিজি সহ অনেক চুক্তিতে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প যদি এভাবে চলতে থাকে তা হলে এ সমস্ত চুক্তি কিভাবে বাস্তবায়িত হবে? সরকার এ ধরণের প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশবাদীদের এর ফলাফল কী হবে তা নিয়ে সাথে পরামর্শ করা উচিৎ ছিল।

বাপা কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চেীধুরী বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় লোকেদের রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার জমি অধিগ্রহণের ফলে যাদের জমি পড়েছে সে প্রকল্পে তাদেরকে অধিগ্রহণের টাকা নিতে দিনের পর দিন ধরনা দিতে হচ্ছে, তাও আবার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পার্সেন্টেজ ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। দিনমজুর কৃষক ও মৎস্যজীবীদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।

বাপা মহেশখালী শাখার সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যে উন্নয়নে সুফলের চেয়ে কুফল বেশি সে উন্নয়ন আমরা চাই না। আমরা স্থানীয় জনগণ বুঝতেছি সেখানে কী উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, যাদের জমি সেই প্রকল্পের আন্ডারে পড়েছে তাদেরকে অধিগ্রহণের টাকা নিতে গেলে কাগজপত্রের ভুল ধরে টাকা দিতে চায় না। অথচ পরে তারা ৩০-৪০% পর্যন্ত টাকা দাবি করে। সেই পরিমাণ টাকা দিলে পরেই আগের কাগজেই টাকা দিয়ে দেয়। 
পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]