মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
রাজনীতি
‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা করলো না কেন সরকার?’
‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা করলো না কেন সরকার?’





নিজস্ব প্রতিবেদক
Tuesday, Nov 12, 2019, 4:15 pm
Update: 12.11.2019, 4:17:07 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অভিযোগ আন্তর্জাতিক আদালতে সরকার কেন মামলা করেনি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে এক পেশাজীবী সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই প্রশ্ন তুলেন।

তিনি বলেন, “এই সরকার শুধু দেশের মধ্যেই একটা ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছে শুধু তাই নয়। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজকে তাদের ব্যর্থতার কারণে বিপন্ন হতে চলেছে। আ্জকে দেশে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা এসেছে। মিয়ানমার তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে এথনিক ক্লিংজিং করার জন্যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে তারা(মিয়ানমার) নির্মূল করে দিতে চায়। সরকার সেভাবে জোরালোভাবে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে নাই। আজকে দেখা যাচ্ছে যে, গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে। অথচ আমাদের সরকার সেইভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে পদক্ষেপে ফলে আজকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিকভাবে একটা চাপ সৃষ্টি হয় মিয়ানমারের উপরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য। আজকে যাদের সঙ্গে তাদের(সরকার) সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো তারাও এই মিয়ানমারকে সমর্থন যোগাচ্ছে।”

বিএসএমএমইউতে গত ১ এপ্রিল থেকে চিকিতসাধীন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এখানে আমাদের চিকিৎসক মহোদয়রা আছেন তারা জানেন যে, কিছুদিন যাবত তার অঙ্গ-প্রত্যক্ষগুলো পঙ্গু হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং তিনি নিজের হাতে ধরে কিছু খেতেও পারেন না, তাকে সাহায্য করে খাইয়ে দিতে হয়। তিনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এমনকি বিছানা থেকে তাকে দুইজন সাহায্য করে তুলতে হয়। অথচ সরকারের যে মদদপুষ্ঠ হাসপাতাল, সেই হাসপাতালের পরিচালক সাহেব বলেন যে, তিনি সুস্থ আছেন তার কোনো অসুবিধা নেই। তিনি আগের চেয়েও সুস্থ আছেন। এই যে মিথ্যাচার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটা মিথ্যা ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, যে তথ্য দেয়া হচ্ছে- এরজন্য তার(পরিচালক) বিচার হওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেই মেডিকেল বোর্ড গঠন করার পরে যে বিবরণ তারা দিয়েছেন, যে রিপোর্ট তারা দিয়েছেন সেই রিপোর্ট পরপন্ত প্রকাশ করা হচ্ছে না। আমরা এই সভা থেকে স্পষ্টভাবে দাবি জানাতে চাই, অবিলম্বে তার সঠিক স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রকাশ করা হোক, এটা তাদের দায়িত্ব। জনগন তা জানতে চায়।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা দেখছি যে, ফ্যাসিবাদের একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। আমাদের এখন পর্যন্ত মিথ্যা মামলায় আসামির সংখ্যা ২৬ লক্ষের উপরে, মামলার সংখ্যা এক লক্ষের উপরে। ভিন্নমত পোষণকারী রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা, শ্রমিকনেতা, যুবনেতাদের প্রায় ৫‘শ বেশি নেতাকে গুম করে ফেলা হয়েছে। আমরা দেখেছি পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে, অসংখ্য মানুষ আজকে আহত হয়ে আছেন। এই একটা অবস্থা, ত্রাসের রাজত্ব- কেউই মন খুলে কথা বলতে পারে না। সবাই সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকেন।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে যেকোনো বিষয়ে যদি একটা ঘটনা ছোট-খাটো ঘটলো মামলা সাথে সাথে দেয়া হয় এবং বলা হয় যে, অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৫ হাজারের উপরে। অর্থাত এই সাধারণ মানুষগুলোকে পর্যন্ত কোনো রেহাই দেয়া হয় না। এই অবস্থা দীর্ঘকাল ধরে লক্ষ্য করছি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা বিভিন্ন রকমের কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, তারা শক্তি প্রদর্শন করছে। শক্তি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে।”

শুদ্ধি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখন নতুনভাবে শুরু করেছে শুদ্ধি অভিযান। কিসের শুদ্ধি? তারা তাদের যেসমস্ত ছোট-খাটো চুনোপুঁটি তাদের ধরে নিয়ে বলছে যে, অপরাধীদেরকে ধরা হচ্ছে। কিন্তু আসল অপরাধী যারা আছে উপরে। ২৯ ডিসেম্বর যারা ভোট ডাকাতি করলো, তাদের চেয়ে বড় অপরাধী তো কেউ হতে পারে না। কারণ তারা জনগনের মৌলিক অধিকারকে হরন করে নিয়েছে, সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। আজকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায় ব্যাংকের মাধ্যমে, শেয়ার মার্কেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায়, একটা বালিশ কিনতে নেয় ২৫ হাজার টাকা, পর্দায় লাগে ২৭ লক্ষ টাকা। এভাবে তারা সমস্ত জায়গায় লুট করছে, লুট করে নিয়ে যাচ্ছে- কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারণ এখানে কোনো জনগণের নির্বাচিত সংসদ নেই, জনগণের কোনো সরকার নেই।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যেসব চুক্তি হয়েছে তার দেশের স্বার্ বিরোধী মন্তব্য করে ওইসব চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানান ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ম্যান্ডেট বিহীন একটা সরকার। তাদেরকে ক্ষমতায় রাখা মানে হচ্ছে জনগণের সর্বনাশ করা, জনগণের ক্ষতি করা। জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বি হয়ে গেছে, পেঁয়াজের কথা আপনারা সবাই জানেন। শুধু পেঁয়াজ নয়, প্রত্যেকটা জিনিসের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আজকে সাধারণ মানুষ কাজ করে খেতে পারছে না, সেই ক্ষমতা নাই। অথচ গ্রামে যান কৃষকরা বলবে যে, আমরা ধানের দাম পাই না, সাড়ে ৩শ/৪শ টাকা ধানের দাম। অথচ চাল কিন্তু ৫০/৬০ টাকার নিচে নাই।”

তিনি বলেন, “আজকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা বার বার এইকথা বলেছি, বলছি আবারো। আজকে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির মানুষগুলোকে এক হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। তাদেরকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়ার জন্য আগের নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আসুন আজকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই এবং এই আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই সরকারকে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলনের সূচনা করি।”
=
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি এই সভা থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় রেল দুর্ঘটনা নিহতের  প্রতি আমাদের শোক জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছে তাদের সুস্থতা কামনা করছি। প্রতিদিন দেখবেন সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে, অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। ব্যর্থ হয়ে গেছে এই সরকার। কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দুর্ঘটনা তো অনেকগুলো। ঘটলো কিভাবে? কোনো জবাবদিহিতা তো নাই। এই সরকার ব্যর্থ সরকার। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করতে চায়।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হয়।

সংগঠনের সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন পরিচালনায় সমাবেশে পেশাজীবী নেতা রুহুল আমিন গাজী, ফজলুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক শামসুল আলম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু,শামীমুর রহমান শামীম, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]