শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
রাশিয়ান এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সংবাদপত্র
রাশিয়ান এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সংবাদপত্র





স্পুটনিক
Monday, Nov 11, 2019, 3:25 pm
Update: 11.11.2019, 3:27:00 pm
 @palabadalnet

এই মুহূর্তে বাজারে থাকা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হলেও তার কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। ভারতীয় একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

টাইমস নাউ নিউজ (টিএনএন) নামে অনলাইন সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক কৌশলগত সুবিধা দেয় এমন দুর্দান্ত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে এস-৪০০-কে সমীহ করা হলেও সত্যিকারের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি পরীক্ষা করা হয়নি।
 
পত্রিকাটি আরো লিখে যে, সিরিয়ার যুদ্ধ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে দেখানোর সুযোগ ছিলো রাশিয়ার। কিন্তু রাশিয়া তা করেনি।

২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল সিরিয়ার দুমায় ‘রাসায়নিক হামলা’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স হঠাৎ করেই বড় ধরনের অভিযান চালায়। মার্কিন রণতরী থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান থেকে দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। পরে জানা যায় ওই ‘রাসায়নিক হামলা’টি আসলে ছিলো পাতানো। কিন্তু সিরিয়া তার পুরনো আমলের অস্ত্রশস্ত্র যেমন এস-২০০ দিয়ে এই হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। সিরিয়ার অস্ত্রগুলো মূলত ১৯৬০’র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কেনা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে বলেছে যে ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৭১টি আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে (যা প্রায় ৭০%)।

এদিকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার খেমেইমিম বিমান ঘাঁটিতে এস-৪০০ মোতায়েন করা থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। রাশিয়ার সেনাবাহিনী এর আগে বলেছিলো যে সিরিয়ায় মোতায়েন রাশিয়ার সেনাদের রক্ষার জন্য এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

অপরীক্ষিত হলেও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে বলে টিএনএন উল্লেখ করে। এগুলোর মধ্যে আধুনিক নির্মাণ – যার বলে এগুলো স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্রে স্থাপন করা সম্ভব (৪০ থেকে ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে)। এগুলোর সচলতা বেশি এবং দ্রুত মোতায়েন করা যায়। এর দামও ফ্রান্স বা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিকল্পগুলোর চেয়ে কম।

পরিশেষে সংবাদমাধ্যমটি জানায় যে এস-৪০০ ব্যবস্থা যে দূরপাল্লার ৪০এন৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম সেটিই সত্যিকারভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ এমএস থেকে একে আলাদা করেছে। প্যাট্রিয়টের পাল্লা মাত্র ১০০ কিলোমিটার বা তারচেয়ে কম।

এস-৪০০ ব্যবস্থাকে রাশিয়ার হাতে থাকা সবেচেয়ে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মনে করা হয়। রাশিয়া ছাড়াও বেলারুশ, চীন এবং অতি সম্প্রতি তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ভারতও ক্ষেপণাস্ত্রটি হাতে পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরবরাহের কাজ দ্রুততর করার জন্য দিল্লি অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রেতা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]