মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
বাবরি মসজিদের বদলে পাঁচ একর জায়গা প্রত্যাখান মুসলমানদের
বাবরি মসজিদের বদলে পাঁচ একর জায়গা প্রত্যাখান মুসলমানদের





পালাবদল ডেস্ক
Monday, Nov 11, 2019, 12:04 pm
 @palabadalnet

শনিবার (৯ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত আইনি প্রশ্নের মিমাংসা করে দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে রাম মন্দির সেই জায়গায় নির্মিত হবে যেখানে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ষোড়শ শতকে নির্মিত বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিলো।

অনেক দিক দিয়েই এই রায় অস্বাভাবিক: এখানে আইনের উপর বিশ্বাসকে স্থান দেয়া হছে, প্রমাণ করার পুরো বোঝা চাপানো হয়েছে মুসলমানদের উপর এবং ঊনবিংশ শতক থেকে বাবরি সমজিদে নামাজ আদায়ের বিরোধিতাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
 
তাছাড়া আদালত শুধু ভূমির মালিকানা প্রশ্ন, যা মামলার একমাত্র বিষয় ছিল, তা নিস্পত্তি করেই ক্ষান্ত হয়নি। আদালতের আইনের বাইরে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইউনিয়ন সারকারের ট্রাস্টকে মন্দির নির্মাণ করে দিতে বলেছে এবং এরপর বাবরি মসজিদের বদলে আরেকটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জায়গা দিতে বলেছে। ২৭ বছর আগে হিন্দু উগ্র জনতা এই মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

সাধারণ মুসলমানরা আদালতের এই রায় মেনে নেবেন বলে জানালেও মুসলিম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরগুলো পাঁচ একর জমি দানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা একে বলছেন চ্যারিটি বা দাতব্য দান।

মূল্যহীন

ক্ষোভপ্রকাশকারীদের শীর্ষে আছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলিমিন (এআইএমইএম) নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। লোকসভায় তার দলের দু’জন এমপি রয়েছে। ওয়াইসি বলেন, বাস্তবতা হলো ভারতের মুসলমানরা যেন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তাদের উত্তর প্রদেশে পাঁচ একর জমি কিনে মসজিদ নির্মাণের ক্ষমতা নেই। আমরাতো আমাদের আইনগত অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। পাচঁ একর জমি দানের মতো চ্যারিটি আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করত হবে না।

মুসলিম বাদিরাও একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বাদি হাজি মেহবুব দি টেলিগ্রাফকে বলেন, তারা যেভাবে আমাদের সঙ্গে আচরণ করেছে তা যেন ললিপপ দিয়ে শিশু ভোলানো।

মুসলিম পক্ষের আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানি বলেন, আমাদের কাছে পাঁচ একরের কোন মূল্য নেই।

মুসলিম পক্ষের আরেক আইনজীবী এমআর শামশাহ যুক্তি দিয়ে মুম্বাই মিররকে বলেন যে মন্দিরকেও পাঁচ একর দান করা উচিত। সুপ্রিম কোর্ট ভিন্ন কোন জায়গায় মুসলিমদের পাঁচ একর জায়গা দিতে বলে প্রমাণ করেছে কতটা অন্যায্য বিচার একটি সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা কোন গ্রান্ড মসজিদ বানানোর বিষয় নয়, এটা জায়গাটির উপর আইনগত অধিকারের বিষয়।

দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান

রাজনীতিক ও বাদিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বলছেন মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাও। হিন্দুস্তান টাইমসে এক লেখায় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আধুনিক ও সমসাময়িক ভারতের ইতিহাস’-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ এই পাঁচ একর জমি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সেটাও যে কোনো বিতর্কিত জায়গায় পরিণত হবে না তা কে জানে?

নারী অধিকার কর্মী ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য সৈয়দা হামিদ মুসলমানদের প্রতি স্পষ্ট, রাজনৈতিকভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে অযোধ্যার এই পাঁচ একর জমি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: স্ক্রল.ইন

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]