বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৯ কার্তিক ১৪২৬
 
রাজনীতি
৭ নভেম্বর কোনো বিপ্লব হয়নি: মাহজাবিন খালেদ
৭ নভেম্বর কোনো বিপ্লব হয়নি: মাহজাবিন খালেদ





নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, Nov 7, 2019, 2:45 pm
Update: 07.11.2019, 2:45:56 pm
 @palabadalnet

ঢাকা: ৭ নভেম্বর একটি প্রানাঘাতী সেনাঅভুত্থান সংঘঠিত। সেখানে কোনো বিপ্লব হয়নি দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টর কমান্ডার ও কে-ফোর্সের সর্বাধিনায়ক খালেদ মোশররফের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ। 

তিনি বলেন, যারা সেনাবাহিনীকে সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। যারা সংবিধান ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন, যারা মুক্তিযযদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ চেয়েছে, তাদেরই ওইদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। 

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাব মওলানা আকরম খাঁ হলে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যার বিচারের দাবি’তে এক ‘সংবাদ সম্মেলন’ ও ‘অভিমত প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের রক্তাক্ত ঘটনা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে খালেদ মোশাররফ ট্রাস্ট। এতে সাবেক তথ্যসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ,মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরীর কন্যা নাসিমা ওসমান, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ এবং  অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরামের (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে মাহজাবিন খালেদ বলেন, দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর একটি সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন খালেদ মোশররফ। ৩ নভেম্বরের পর সেনানিবাসের ভেতরে ওই টালামাটাল দিনগুলিতে একটি গুলি ছুড়তে হয়নি তাকে। একজন মানুষকেও আঘাত করা হয়নি। খালেদ মোশররফ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শায়েস্তা করে সেনাবাহিনীকে একটি চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৬ নভেম্বর রাত ১২টার পর ঢাকা সেনানিবাস থেকে যখন ‘তথাকথিত সিপাহি বিপ্লবের’ সূচনা হয়। তখন খালেদ মোশাররফ ও অন্যরা বঙ্গভবনে ছিলেন। গোলাগুলির সংবাদ শুনে খালেদ মোশাররফ কর্নেল হুদার মাধ্যমে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক নওয়াজেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ইউনিটে যান। ভোরের দিকে খালেদ মোশাররফের অবস্থান জানার পর জিয়াউর রহমান তার সাথে কথা বলেন এবং দুজনের মধ্যে উতপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এপরপরই কিছুসংখ্যক সৈনিক নওয়াজেশের অফিসের দরজা ভেঙে তিনজনকেই বাইরে নিয়ে এসে গুলি করে হত্যা করে। তাই জানতে বাকি নেই কার নিদের্শে খালেদ মোশাররফ ও তার সহকর্মীদের নির্মমভাবে হত্য করে। 

তিনি আরো বলেন, খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বেই গৃহবন্দী করা হয়েছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে যিনি কিনা মোশতাক চক্রের আস্থাভাজন হিসাবে  পরিচিতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন বলেই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিলেন মোশতাক। 

তিনি বলেন, আমরা চাই পৃথিবীর আর দশজনের মতো পিতৃহত্যার বিচারসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার বিচার। চাই সত্য উদঘাটন হোক। দেশ ও জাতিকে সঠিক তথ্য উপাত্ত জানাতে এবং খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে-এটাই প্রত্যাশা। 

মাহজাবিন খালেদ বলেন, খালেদ মোশাররফের ক্ষমতার মোহ ছিল- তথ্যনির্ভর এমন দাবি কেউ করতে পারবে না। তিনি বিনা রক্তপাতে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ক্ষমতা দখলের আগ্রহ দেখাননি। এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে,বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ। রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ সায়েমকে। 

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]