সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
বাংলাদেশের সীমান্তে ইসরাইলি ড্রোন মোতায়েন করেছে ভারত
বাংলাদেশের সীমান্তে ইসরাইলি ড্রোন মোতায়েন করেছে ভারত





পালাবদল ডেস্ক
Tuesday, Nov 5, 2019, 9:44 am
Update: 05.11.2019, 9:46:00 am
 @palabadalnet

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ধুবরি সেক্টরে চোরাকারবারিদের ওপর নজর রাখতে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) আক্ষরিক অর্থেই গোপন অবস্থানে চলে গেছে। তারা আকাশেও চোখ রাখছে।

মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার পর্যন্ত বিস্তৃত ধুবরি সেক্টরের জন্য বিএসএফ অনির্দিষ্ট সংখ্যক ইসরাইলি টেথার ড্রোন কিনেছে। এসব ড্রোনের প্রতিটির দাম ৩৭ লাখ রুপি। এগুলোতে রয়েছে দিবা-রাত্রি ভিশন ক্যামেরা। এগুলো দুই কিলোমিটার দূর থেকেও ছবি ধারণ করতে পারে।
 
বাংলাদেশের সাথে আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ – এই ৫ ভারতীয় রাজ্যের রয়েছে ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত। আর আসামের ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১১৯.১ কিলোমিটার হলো নদী।

পশ্চিম আসামের ধুবরি সেক্টরের ৬১ কিলোমিটার সীমান্তে রয়েছে বিস্তৃত ব্রহ্মপুত্র নদী। এখানে পাহারা দেয়া মানুষের জন্য খুবই কঠিন কাজ। বিশেষ করে নানা চর আর নদীর শাখা-প্রশাখা এখানে নজরদারি চালানোর কাজটি খুবই কঠিন করে তুলেছে।

বিএসএফের গৌহাটি ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক পিযুস মর্দিয়া দি হিন্দুকে বলেন, চোরাচালান হয় সাধারণত রাতে। অন্ধকার স্থানগুলোতে নজরদারি করা কঠিন। কিন্তু এসব ড্রোনে থাকা ক্যামেরাগুলো সর্বোচ্চ ১৫০ মিটার উঁচু থেকে আমাদের সার্বক্ষণিক ছবি দিয়ে আমাদের দৈহিক ও জৈবিক সীমাবদ্ধতা দূর করবে।

সাধারণ ড্রোন ও টেথার ড্রোনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ ড্রোনে ৩০ মিনিট উড্ডয়নের পর এর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া এগুলো প্রবল বাতাসে গতিপথ হারিয়ে ফেলে। ধুবরি সেক্টারে প্রায়ই প্রবল বাতাস ও ঝড়ো হাওয়া থাকে। টেথার ড্রোন এসব সমস্যা থেকে মুক্ত।

তিনি স্বীকার করেন, টেথার ড্রোন দিয়ে গরু বা মানুষ পাচার ঠেকানো যাবে। তবে চোরাকারবারিদের কাছে আসল যে বার্তাটি পৌঁছে দেয়া হবে তা হলো, তারা দিন-রাত সবসময়ই নজরদারির মধ্যে আছে।

ড্রোন ছাড়াও বিএসএফ অ-স্পর্শ তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মাল ইমেজারও মোতায়েন করেছে। মানুষ, প্রাণি ও অন্যান্য বস্তুর চলাচল শনাক্ত করার জন্য মাটির নিচে ও পানির নিচেও সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে বলে মর্দিয়া জানান।

পানির নিচে নজরদারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নদীতে আমাদের লোকজন নৌকা ছাড়া টহল দিতে পারে না।

চোরাকারবারিরা প্রায়ই পলিথিনে ভর্তি চোরাই ওষুধ ও কফের সিরাফ পাচারের জন্য ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা নদীগুলো ব্যবহার করে। অনেক সময় তারা এগুলো নৌকার তলায় বেঁধেও পাচার করে। শিশুদের দিয়ে ডুব সাঁতারের ব্যবস্থা করেও কাজটি করে থাকে পাচারকারীরা।

ধুবরি সেক্টরে বিএসএফ সদস্যরা প্রতি মাসে অন্তত এক ডজন গরু আটক করে। এগুলো তারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়।

মর্দিয়া বলেন, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে যাতে চোরাকারবারিরা গরু সংগ্রহ করতে না পারে, সেজন্যও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার জন্য বিএসএফের সরঞ্জাম সংগ্রহ হলো ব্যাপকভিত্তিক সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অংশ।- সংবাদমাধ্যম

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]