মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
সারাবাংলা
পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অসংখ্য অভিযোগ
পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অসংখ্য অভিযোগ





বরিশাল ব্যুরো
Tuesday, Nov 5, 2019, 12:44 am
 @palabadalnet

বরিশাল: বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ নেতার হাত পা ভেঙে  নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। তিনি এজন্য এমপি পংকজ দেবনাথকে দোষী সাব্যস্ত করে আসছেন। 

ইউপি সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, দখল সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, জমি দখল এবং অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ অর্জনসহ ১৬টি অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা করেছেন। অন্যদিকে, এমপি পঙ্কজনাথ দেবনাথ করেছে চোর-ডাকাতের জন্য ভাতা সিস্টেম চালু। 

গতকাল সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন, এমপি পঙ্কজ নাথ নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছেন।

তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছেন তাদের হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমিও তার সন্ত্রাসী, হামলা-মামলা এবং নৈরাজ্যের শিকার। তিনি বলেন, ভুয়া ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়। যার মধ্যে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরি নেয় এমপি’র আপন ভাই মনজ কুমার নাথ’র স্ত্রী কল্যান রাণী দেবনাথ। এই নিয়োগ বাণিজ্যের মধ্যেমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন পঙ্কজ নাথ। এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে পঙ্কজ নাথ এর ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ ও বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মিয়াসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ই মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুদক মামলারটির তদন্ত শুরু করে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান তদন্ত করছেন।

এদিকে মামলা করায়, ক্ষিপ্ত এমপি পঙ্কজ নাথ ২০১৭ সালের ২০শে এপ্রিল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার দুটি পা, একটি হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এর পরে আমার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণকরে। ওই মামলায় আমি ১৮ দিন কারাবন্দি ছিলাম। এতেই ক্ষ্যান্ত হননি তিনি। ২০১৮ সালের ১২ই জুন মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভিআইপি ১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মেরে মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয়।

লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় চন্দ্র অভিযোগ করে বলেন, ‘পঙ্কজ নাথ গবিন্দপুর ইউনিয়নের চরে দেড় হাজার একর জমি থেকে বছরে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুরের গাগড়িয়ার চরে তার চাচাত ভাই রাম কৃষ্ণ নাথ হাজার হাজার একর জমি ভূয়া খতিয়ান খুলে ঘর তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও রাতের আঁধারে ভুয়া রেজুলেশন করে স্কোডিং দেখিয়ে জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকা করে নিয়ে ৮শ’ বন্দোবস্তের কার্ড অনুমোদন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পঙ্কজ দেবনাথ তার ডিও লেটার দ্বারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বালুমহলের টেন্ডার বন্ধ করে তার চাচাত ভাই রিপন দেবনাথ ও আপন ভাই মনজ কুমার দেবনাথের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

দুর্নীতির খেতাবপ্রাপ্ত এমপি পঙ্কজ নাথ ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। শুধু নিয়োগই নয়, টেন্ডারবাজি, গোডাউন সিন্ডিকেট, জেলা পরিষদের ঘাট দখল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ফান্ডের নামে টেন্ডারবাজি করে দুই উপজেলা থেকে ১৫ ভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত বছরে ৬-৭ টন টিআর, কাবিখা সরকারিভাবে ৪০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ থাকলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১২-১৫ হাজার টাকা মূল্যে দেয়া হয়। বরিশালে জেলা পরিষদের ইজারাকৃত ৬টি ঘাট জবর দখল করায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এমপি পঙ্কজ নাথ রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্লাট, উত্তরায় বিলাশবহুল ১০ তলা বাড়ি, মালিবাগে গার্মেন্ট, পরিবহন ব্যবসা, নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি, নিজের নামে লাল পাজারো গাড়ি, একটি প্রাইভেট কার, চার কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাশবহুল নোভা মার্চেটিজ গাড়ি ব্যবহার করছেন।

রাশিয়ার মস্কোতে তার বোন জামাতার মাধ্যমে সেখানে ডেভেলপার্ক ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এমপি পঙ্কজ নাথ একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১/১১ এর সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে আদালত পৃথক দুটি মামলায় তাকে সাজা দেয়। এর একটিতে ১৩ বছর অপরটিতে ৩টি বছর। এসময় পঙ্কজ নাথ’র এতো অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]