শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
সারাবাংলা
শিবালয় ভূমি অফিসে দুর্নীতি: একজনের জমি আরেক জনের নামে খারিজ
শিবালয় ভূমি অফিসে দুর্নীতি: একজনের জমি আরেক জনের নামে খারিজ





মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
Sunday, Nov 3, 2019, 9:27 pm
 @palabadalnet

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের শিবালয় ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমি অফিসের নায়েব, পিয়ন, সহকারী ও নিয়োগকৃত দালালরা অত্র এলাকার ভূমি বিষয়ক বিভিন্ন অপকর্মে সরাসরি জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় ভূমি অফিসের সাথে দুর্নীতিতে যোগ দিয়েছে শিবালয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারসহ দু’একজন। 

এলাকায় ব্যপক অনুসন্ধানে জানা গেছে ইউনিয় ভূমি অফিসের নানাবিধ অপকর্মের কথা। এরমধ্যে জমির খসড়া পর্চা দিতে গড়িমসি, বাড়ি ঘরের খাজনা নিতে অস্বীকার এবং চাহিদামত অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সরকারী অফিসসহ মানুষের বাপ-দাদার বসত বাড়ি দখল স্বত্বহীন অন্যজনের নামে নামজারি করে দেয়ার মত মারাত্মক অভিযোগ উঠে এসেছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।  

অভিযোগে জানা গেছে, আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ অভ্যান্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ ) আরিচা ঘাট কার্যালয়, মোহামেডান ইয়ুথ ক্লাব শিবালয় এর মতো প্রতিষ্ঠিত সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬০/৭০ বছরের বসত বাড়িও দখল স্বত্বহীন রবিন্দ্র কুমার সরকারের নামে খারিজ করা হয়েছে।  জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ড পর্চা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০৫০, ১০৫১,১০৫২ আর এস দাগে ৪১ শতাংশ জমি এবং ১১১৮ ও ১১২৬ আর এস দাগের ৩১ শতাংশ জমি উক্ত রবীন্দ্র কুমার সরকারে নামে খারিজ দেয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। 

এসব ব্যাপারের আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, কিছু দিন আগে পরিচিত-অপরিচিত কয়েকজন লোক আমার কাছে এসেছিল বিদ্যালয়ের জমির ব্যপারে কথা বলতে। আমি তাদেরকে বলেছি এটা একটা স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী সকল নিয়ম-কানুন মেনেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লেখা-পড়া নিয়ে ব্যস্ত। এটা আমার ব্যাক্তিগত সম্পদ নয়। যদি জমি-জমার ব্যাপারে আপনাদের বৈধ কাগজপত্র থাকে তাহলে বিদ্যালয় উচ্ছেদের মামলা করে আসেন। তাছাড়া আমার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না।  এরপর তারা আর আমার কাছে আসেনি। তিনি আরো বলেন, এমন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে যে বা যারা অন্যের নামে খারিজ করে দেয় তাদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। 

একই ব্যাপারে নাম প্রকাশ করা শর্তে মোহামেডান ইয়ুথ ক্লাবের এক সদস্য জানান, সরকারের সকল নিয়ম-কানুন মেনে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে এলাকার বহু যুব-কিশোররা এসে দাবা-কেরামসহ নানাবিধ খেলা-ধুলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। তাছাড়া আমরা রবি সরকার নামে কাউকে চিনি না এবং খারিজের ব্যপারে কিছু জানি না। তবে যারা এ চক্রের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বন্দর ও পরিবহণ বিভাগের উপ-পরিচালক শেখ সেলিম রেজা বলেন, আমাদের অফিসের ভূমির খাজনা আমরা প্রতি বছর নিয়ম মাফিক পরিশোধ করে আসছি। বিধায় অফিসের জমি কোন ব্যক্তির নামে খারিজ হওয়ার কথা না। তাছাড়া রবি সরকার নামে কাউকে আমরা চিনি না। তবে যেহেতু আমরা জানলাম তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা ডিসি স্যারের সাথে কথা বলবো। 

একই প্রতিষ্ঠানের যুগ্ম পরিচালক (সিপিএস)  আব্দুর রহিম বলেন, এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকার জমি অধিগ্রহণ করেই এ অফিস করেছে।  এর মধ্যে থেকে কেউ যদি ব্যক্তি নামে জমি খারিজ করে থাকে এবং তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের সবাইকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

বিআইডব্লিউটিএর পাবলিক রিলেশন অফিসারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনি বিষয়টি নিয়ে আরিচা পোর্ট অফিসারের সাথে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি ভাল বলতে পারবেন। তাছাড়া আমাদের ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট রয়েছে আপনি সেখানেও যোগাযোগ করতে পারেন। তারা আপনাকে সহযোগিতা করবেন। 

এ ব্যাপারে আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও  আরিচা ঘাটের বিশিষ্ট ব্যবাসায়ী মো. শুকুর আলী শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত ও প্রতিষ্ঠিত বাড়ি ঘরের মালিকদেরকে কোন রকম নোটিশ না দিয়ে তাদের জমি অন্যের নামে যারা খারিজ করে দেয় তাদের সন্তাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। কোথা থেকে এসব ভূমিদস্যুরা আসলো যাদের কারণে অনেক বাড়ি ঘরের মালিক হয়রানির শিকার এবং অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং অনিশ্চয়তায় দিনযাপন করছেন। 

শিবালয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুর রহিম সাংবদিকদের বলেন, জমির মালিকানা না থাকলে তার নামে জমি খারিজ হওয়ার কথা না। কোন জমি খারিজ হয়ে থাকলে তার নামে কাগজপত্র দেখে খারিজ দেয়া হয়েছে। তবে আমি আসার আগে কোন জমি খারিজ হয়ে থাকলে তা নথি না দেখে বলতে পারবো না। জমির স্বত্তদখলহীন ব্যক্তির নামে কিভাবে খারিজ হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমির দখল না থাকলেও জমির খারিজ দেয়া যায়। 

শিবালয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. রমজান আলী বলেন, আমরা কাগজ পত্র দেখেই খারিজ প্রদান করে থাকি। আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। এরমধ্যে দু/একটি ভুল হয়ে যেতে পারে আপনি আসেন আমরা নথি দেখে অতি দ্রুত ঠিক করে দেব। 

শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনানের (ভূমি) সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে একাধিকবার কল করার পরও তিনি কল রিসিভ করেনি। 

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]