সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
ভারতীয় সেনাপ্রধান রাওয়াতের বিপজ্জনক উচ্চাভিলাষ
ভারতীয় সেনাপ্রধান রাওয়াতের বিপজ্জনক উচ্চাভিলাষ





দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
Wednesday, Oct 30, 2019, 6:07 pm
 @palabadalnet

ইন্ডিয়া টুডে ২০ অক্টোবর ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এই বক্তব্য প্রকাশ করে যে ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরের সন্ত্রাসী ক্যাম্পগুলো টার্গেট করে আর্টিলারি কামান ব্যবহার করে’ এবং ‘৬-১০ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়, তিনটি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়।’ আইএসপিআর সাথে সাথে ভারতীয় দাবি চ্যালেঞ্জ করে, ভারতীয় সেনাপ্রধানের ওই দাবি যে মিথ্যা তা প্রমাণ করার জন্য সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের (ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন) ২২ অক্টোবর সেখানে নিয়ে যায়। এর আগে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরকে পুনরুদ্ধার করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী গত ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের অসত্য ঘোষণা দিয়েছিল।

সামরিক বাহিনীকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা বেসামরিক নেতৃত্বাধীন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের বক্তব্য বিপজ্জনক মাত্রার দেউলিয়াত্বের প্রকাশ। জেনারেল রাওয়াতের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে বিজেপি/আরএসএসের নীতিই অনুসরণ করছে, যা একটি পেশাদার বাহিনীর জন্য মর্মান্তিক পতন।

অনেক আমলার মতো কিছু জেনারেলও তাদের নৈতিক পেশাদারী আচরণের সীমা অতিক্রম করে পদোন্নতি, আকর্ষণীয় নিয়োগ, অবসর-পরবর্তী চাকরি ইত্যাদির জন্য রাজনীতিবিদদের সুরে কথা বলেন। জেনারেল রাওয়াতের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হ্যাটটিও তার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথাই বলে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনী দৃশ্যত পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করার ঢোল বাজাচ্ছে। তারা মনে হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের বুঝিয়েছে যে স্থলে, সাগরে ও আকাশে খুব সহজেই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীকে পরাজিত করতে পারবে তাদের বিশাল বাহিনী। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই প্রচলিত যুদ্ধ পরমাণু যুদ্ধেও পরিণত হতে পারে। তারা পাকিস্তানের জাতীয় দৃঢ়তারও অবমূল্যায়ন করেছে। তাদের মনে রাখা উচিত, বালাকোটে একটি মৃত কাক আর আঘাতপ্রাপ্ত বৃক্ষই ভারতের বিশালতর বিমান বাহিনীর হামলার সাক্ষ্য দিচ্ছে। এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনী মর্যাদা আর উদারতার প্রমাণ দিয়েছে। তারা গুলি করে ভূপাতিত বিমানের পাইলটকেও ফেরত দিয়েছে। এই ঘটনায় তাদের গর্ব ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। তবে তা থেকে মুক্তি পেতে তারা আরো নাটক সাজিয়েছে।

ভারতের ২৭তম সেনাপ্রধান জেনারেল রাওয়াতের এই ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সম্ভবত প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হতে চাচ্ছেন। ১১ গোর্খা রাইফেলসে কমিশনপ্রাপ্ত এই জেনারেল কাশ্মিরবিষয়ক অভিজ্ঞ। তিনি এখানে একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের কমান্ডে ছিলেন। এছাড়া সপোরে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ও উরিতে ১৯ ইনফেন্ট্রি ডিভিশনে ছিলেন। তিনি ও পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল কমর বাজওয়া ২০০৮ সালে কঙ্গোতে বহুজাতিক ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই বাহিনীর কমান্ডে ছিলেন রাওয়াত। ২০১৫ সালে দিমাপুরে তৃতীয় কোরের কমান্ডার হিসেবে তিনি মিয়ানমারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিলেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে। তিনি আসলে বিদ্রোহ দমনেই বেশি পারদর্শী। এ কারণেই তিনি আসল যুদ্ধের অবস্থা বুঝতে পারেন না।

ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বুঝতে হবে যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি একটি পেশাদার বাহিনী। তারা সবসময় ভারতের হুমকির বিপরীতে নিজেদের ভারসাম্য অবস্থায় গড়ে তোলে।

ভারতের পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুতের বিপরীতে পাকিস্তানও পরমাণু অস্ত্র করায়ত্ত করে। আর পাকিস্তানি বাহিনীর রয়েছে উচ্চ মনোবল, অনেক বেশি উদ্দীপনা ও লড়াই করার মানসিকতা।

সাহওনির মতো বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীই বরং সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তাদের সামরিক অপারেশন অনেক সুসংগঠিত।

ক্ষেপণাস্ত্রের দিক থেকে সাহওনি উল্লেখ করেছেন যে বেনজির ভুট্টো ‘জিরো মিসাইল রিজাইমের’ প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভারতকে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারত। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জেনারেল আসলাম বেগের সময় ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে নিজস্ব উৎপাদন ও মোতায়েনে।

একইভাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতীয় বিমানবাহিনীর চেয়ে সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও চীনের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছে। এই দুই বিমান বাহিনী নিয়মিত মহড়া চালায়। এতে করে দুই বাহিনীই বিপুলভাবে উপকৃত হয়।

আবার চায়না-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে চীনারা কার্যত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

তাছাড়া ভারতের কোল্ড স্ট্রাট ডকট্রিনের বিপরীতে পাকিস্তান প্রোঅ্যাক্টিভ স্ট্র্যাটেজি সামনে এনেছে।

ফলে জেনারেল বিপিন রাওয়াতের উচিত তার খামখেয়ালিপূর্ণ উচ্চাভিলাষ ও সিডিএস হিসেবে মেয়াদ বাড়ানোর স্বপ্নের লাগাম টেনে ধরা।

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]