বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৯ কার্তিক ১৪২৬
 
প্রতিরক্ষা
পাকিস্তান-তুরস্ক নৌ কূটনীতি
পাকিস্তান-তুরস্ক নৌ কূটনীতি





মোহাম্মদ সোহাইল আহমেদ
Tuesday, Oct 22, 2019, 1:16 am
 @palabadalnet

পাকিস্তানের নৌবাহিনী দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নৌ ফ্রন্টে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এবং যে কোন দিক থেকে সমুদ্রপথের হুমকি মোকাবেলার জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে। তুরস্কে সাম্প্রতিক  সফরকালে পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি মিলজেম শ্রেণীর সাবমেরিন বিধ্বংসী করভেট কেনার চুক্তি করেছে, যেগুলোতে স্টেলথ প্রযুক্তি থাকবে এবং তুরস্কের শিপইয়ার্ডে যেটার ডিজাইন করা হয়েছে। বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পাকিস্তান নৌবাহিনী নৌ শিল্পের ক্ষেত্রে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করছে, সেখানে ডিজাইন, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা দেয়ার জন্য তুরস্কের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। বিশ্বের মাত্র দশটি দেশের এই সক্ষমতা রয়েছে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে অসামান্য দিক হলো আল্লাহ আমাদেরকে একটা উৎসাহী অংশীদার দিয়েছেন, যারা এই পথে হাঁটছে।

মেধাসত্ব অধিকারের কারণে যে দশটি দেশের বর্তমানে এই সক্ষমতা রয়েছে, তাদের কেউই পাকিস্তান বা তুরস্ককে সাহায্য করতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট এরদোগান জানিয়েছেন যে, ১০০ শীর্ষ প্রতিরক্ষা কোম্পানির মধ্যে তুরস্কের পাঁচটি কোম্পানিও রয়েছে। প্রতিরক্ষা আমদানি বর্তমানে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে তারা এটাকে শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের নৌবাহিনী যেহেতু এই করভেট ব্যবহার করে, তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই চাইবে, কোন ঝামেলা ছাড়াই যেন তারা এটা ব্যবহার করতে পারে। সে কারণে এই করভেটগুলোর মধ্যে দুটি করাচি শিপইয়ার্ডে নির্মিত হবে এবং সবগুলো বাহিনীতে যুক্ত হতে যতখানি সময় লাগবে, ততদিনে তুরস্ক এটার সরঞ্জামের দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। এই সব সরঞ্জামের কিছু কিছু হয়তো পাকিস্তানকেও দেবে তারা।

পাকিস্তান নৌবাহিনীকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি এই সব সরঞ্জাম দেয়ারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান উল্লেখ করেছেন যে, সরবরাহকারী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তুরস্ক এর আগে ভুক্তভোগী হয়েছে। পাকিস্তানও প্রেসলারের সংশোধনী ও কেরি-লুগার বিলের মাধ্যমে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান জানিয়েছেন যে, তার দেশ মনুষ্যবিহীন এবং মনুষ্যবাহী আকাশযানসহ স্যাটেলাইট তৈরিতে সফল হওয়ার পর শিগগিরই তুরস্কের জন্য জঙ্গি বিমান তৈরির ক্ষেত্রেও স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। পাকিস্তানও তাদের নিজস্ব জঙ্গি বিমান তৈরির কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে। যাতে, আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি কাজের সুযোগ পায়, আরও উন্নতমানের শিক্ষা এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে।

পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য এটা হবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খুচরা সরঞ্জামাদি লাভের আশ্বাস। তুরস্কের জনগণ আরেকবার পাকিস্তানের প্রতি তাদের অনড় সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এবারের সমর্থনটা ছিল কাশ্মির ইস্যুতে। কারণ সবচেয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শুধু এটার উল্লেখই করেননি, বরং তিনি এটাও বলেছেন যে, আট মিলিয়ন কাশ্মিরি উন্মুক্ত কারাগারের মধ্যে রয়েছে এবং বর্বরতার মোকাবেলা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি সকল ফোরাম ও সকল পর্যায়ে এই ইস্যুটির উল্লেখ অব্যাহত রাখবেন। এই চিন্তার ঐক্য এবং জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অভিন্নতাকে অবশ্যই সুব্যবহার করে তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা, কূটনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। কাশ্মিরিদের দুর্দশাকে তুলে ধরা ছাড়াও পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান তুরস্কের নেতাকে পাকিস্তানের প্রতি তার অনমনীয় সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: ডেইলি টাইমস

মোহাম্মদ সোহাইল আহমেদ:  পাকিস্তান নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমোডর

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]