বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৯ কার্তিক ১৪২৬
 
মতামত
নেপালের আশার চেয়ে বেশি দিলেন শি
নেপালের আশার চেয়ে বেশি দিলেন শি





শিশির দেবকোট
Thursday, Oct 17, 2019, 11:11 am
 @palabadalnet

শুরুতেই যে খাবারটি পরিবেশন করা হয়, সেটি ছিল ডাম্পলিং। আগের রাতে দক্ষিণ ভারতে নরেন্দ্র মোদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি’কে যে খাবার পরিবেশন করেছিলেন, তার চেয়ে এটি অনেক বেশি পরিচিত। নেপালি এই খাবারটি তার কাছে পছন্দসইও বটে। কাঠমান্ডুর পরিবেশও ছিল অনেক ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট শি গর্বভরে বলেন, নেপাল-চীন সম্পর্ক কত বিপুলভাবে অনন্য এবং তা সুদূর অতীত থেকেই ইতিবাচক রয়েছে। ভারতীয়দের প্রতি এটি ছিল পরিকল্পিত বক্তব্য। কারণ চীনা বন্ধুত্বের অর্থ মূলা আর লাঠি নয়। প্রেসিডেন্ট শির এই সফরটি ছিল প্রায় ২৩ বছর পর কোনো চীনা সর্বোচ্চ ব্যক্তির নেপালে আগমন। তবে ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। অবশ্য সৌভাগ্যবশত, নেপালের জন্য এর প্রয়োজন এখন পড়েছে।

এটাই চীনা প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল গেম পয়েন্ট। তার মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি কথা ছিল হিসাব করে বলা, সেগুলো তার সফর নিয়ে ভারতীয়দের সম্ভাব্য বিশ্লেষণের সময় যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হবে, তার জবাব হিসেবে দেয়া। তার সাফাই গাওয়ার কোনো মনোভাব ছিল না, বরং তিনি ভারতের স্বঘোষিত সহজাত মিত্র হিসেবে দাবি করার পরও নেপালের প্রতি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নে তোলেন। প্রেসিডেন্ট এসব মন্তব্য করেছিলেন আরামদায়ক ডিনারে, নেপালি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছিল যে তিব্বতিরা যাতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। ভারতে কিন্তু তারা তা করেছিল।
 
নেপালের সাথে আস্থার আরো দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণের লক্ষ্যই ছিল প্রেসিডেন্ট শির সফরের উদ্দেশ্য। নেপাল প্রকাশ্যেই ইন্দো-প্যাসিফিক ইউনিয়নের (চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মার্কিন নেতৃত্বাধীন কৌশলগত জোট এটি) প্রতি শীতলতা প্রদর্শন করেছে। ডিনারে সময় যতই গড়িয়েছে, নেপালি অনুভূতিতে ভারতের দেয়া আঘাতগুলো ততই তুলে ধরেছেন শি। চীন একটি ‘ভূসংযুক্ত’ নেপালের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এটা হলো ভূবেষ্টিত ভূগোল থেকে নেপালকে সরিয়ে আনার বাগাড়ম্বরতা। এর মাধ্যমে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে নেপালের ওপর ভারত অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছিল। তবে আলোচনার সারকথা ছিল আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সহজ করা। আর এ কারণেই নেপালিরা যতটা আশা করেছিল, চীনা প্রেসিডেন্ট টেবিলে তার চেয়েও বেশি জিনিস নিয়ে আসেন। তিনি নেপালিদের কানে মধুর সঙ্গীতের মতো করে বলেন যে ‘আমরা যা প্রতিশ্রুতি দেই, তা পূরণ করি। কূটনৈতিকভাবে এর আরেকটি অর্থ হলো, আমরা যা দাবি করি না, তা করি না। ভারত কিভাবে তার কাজ করে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

এই অঞ্চলে চীনের একটি বিশ্বস্ত মিত্রের প্রয়োজন এবং নেপাল তাতে ভালোভাবেই রাজি। মোদির অনির্ভরতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পর্যাপ্ত শক্তি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী ওলি ‘আকর্ণবিস্তৃত হাসি’ হাসতে সক্ষম হন।

নেপাল-চীন সম্পর্ক অন্যান্য স্থানে বেইজিংয়ের স্বার্থের চেয়ে ভিন্ন। এই সম্পর্কের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব না থাকলে দুই দেশের মধ্যকার প্রাক-ঐতিহাসিক সম্পর্ক অটুট থাকবে না। আধুনিক বন্ধুত্বের বাস্তববাদী প্রয়োগের ক্ষেত্রে নেপাল ও চীন সচেতন রয়েছে। চীন হঠাৎ করেই চীন-নেপাল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলেনি। বরং নেপাল সরকারের কাছ থেকে অবিচল আশ্বাস পেয়েই তারা এগিয়ে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই রাষ্ট্রীয় সফরের আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথাবিরুদ্ধ কাজও করেছেন। তিনি নেপালে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রীয় সফরটিকে কিভাবে দেখছেন, তা নিয়ে একটি সম্পাদকীয়ও লেখেন। এটাই ছিল চীনা প্রেসিডেন্টের জন্য গেম পয়েন্ট।

সূত্র: মডার্ন ডিপ্লোমেসি

শিশির দেবকোট: নেপালি কলামিস্ট

পালাবদল/এমএম


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]