শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
দোকলাম নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি চীন ও ভুটান, উদ্বিগ্ন ভারত
দোকলাম নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি চীন ও ভুটান, উদ্বিগ্ন ভারত





দ্য প্রিন্ট
Tuesday, Oct 8, 2019, 3:48 pm
Update: 08.10.2019, 3:54:38 pm
 @palabadalnet

 চীনা সৈন্যদের প্রতীকী ছবি

চীনা সৈন্যদের প্রতীকী ছবি

ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ ঘটিয়ে দোকলাম এলাকায় সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে চীন ও ভুটান। বিরোধপূর্ণ এলাকাটিতে চীন যে সীমারেখা ঠিক করে রেখেছে সেটাকেই দুই দেশের মধ্যে সীমারেখা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর মানে হলো দোকলামের ‘সালামি স্লাইসিং’-এর ক্ষেত্রে সফল হতে যাচ্ছে চীন। কারণ এরই মধ্যে দেশটির দখলে যে ভূখণ্ড রয়েছে তা তারই অধিকারে থেকে যাবে।

এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এই পত্রিকাকে বলেন, দোকলাম মালভূমিতে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে চীন ও ভুটান কোনো ধরনের সমঝোতা করছে। স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষ (ভারত ও চীন) উত্তেজনা কমিয়ে আনার পরের অবস্থান ধরে রেখেছে।

আরেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভুটান ও চীন ২৫ দফার বেশি আলোচনা করেছে। কিন্তু সেখানে কী হচ্ছে আমরা ঠিক জানি না। তবে মনে হচ্ছে যে এখন (চীন) যে সীমারেখা ধরে রেখেছে (হেল্ডিং লাইন) সেটাই কার্যকর সীমারেখায় পরিণত হবে।

হোল্ডিং লাইনের অবস্থান চীনা ভূখণ্ডে অবস্থিত শিবির থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে।

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে ভারতের অতীতের অবস্থান ছিল – প্রতিবেশী দেশগুলো তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করার আগে ভারতের উদ্বেগগুলো তারা আমলে নেবে।

দোকলাম অচলাবস্থা

ভারত মনে করে দোকলাম মালভূমি হলো ভুটানের একটি নির্বিরোধ ভূখণ্ড। কিন্তু চীন একে মনে করে তার চুম্বি উপত্যকার সম্প্রসারিত অংশ। এটি সিকিম ও ভুটানের মধ্যে অবস্থিত। মালভূমির আয়তন প্রায় ৮৯ বর্গকিলোমিটার। এর প্রস্থ ১০ কিলোমিটারেরও কম।

বহু বছর ধরেই দোকলামের ছোট ছোট অংশগুলো চীনের দখলে। সেখানে তারা সড়কও নির্মাণ করে। ২০১৭ সালে এরকম একটি সড়ক নির্মাণ করতে গেলে ভারতীয় সেনারা গিয়ে বাধা দেয়। সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছিল কৌশলগত জামফেরি রিজ-লাইনের অভিমুখে।

উপরে উল্লেখিত প্রথম কর্মকর্তাটি বলেন, আমাদেরকে হস্তক্ষেপ করে সড়ক নির্মাণ বন্ধ করতে হয়েছিল কারণ এতে পিপলস লিবারেশন আর্মি সহজেই শিলিগুড়ি করিডোরের উপর চোখ রাখতে পারতো এবং সেখানে হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য সহজ হয়ে যেতো। ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে মূলভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

২০১৭ সালের ১৮ জুন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৈন্যরা গিয়ে মানববর্ম তৈরি করে চীনা সেনাদের নির্মাণ কাজে বাধা দেয়।

ভারত দাবি করেছিল যে ভুটানের অনুরোধে তারা ভুটানের দাবি করা ভূখণ্ডে গিয়েছে। যদিও ভুটানের তরফ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই মাসের বেশি সময় এই অচলাবস্থা বজায় ছিল। চীন নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ২০০ মিটার পিছিয়ে যেতে রাজি হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। ভারতীয় সেনারাও দোকলাম পোস্টে ফিরে আসে। গত কয়েক বছর এ অবস্থাই বজায় ছিল। এই হোল্ডিং লাইন এখন সীমান্ত রেখায় পরিণত হতে পারে।

ভুটানের অবস্থান

চলতি বছর জুনে দ্য হিন্দু পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং চীনের প্রতি দোকলাম অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন ভারত, চীন ও ভুটানের ত্রি-সংযোগে কোনো পক্ষেরই একতরফা কিছু করা ঠিক হবে না।

ওই সাক্ষাতকারের কয়েক দিন আগে তার সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী দোকলাম মালভূমি সফর করেন। তিনি এমনকি একটি রাত চীনাদের শিবিরেও কাটিয়ে আসেন।

নয়া দিল্লি কড়া নজরে ভুটানের এসব কাজ পর্যবেক্ষণ করে। তখন থেকেই বুঝা যাচ্ছিল যে দুই দেশের মধ্যে কিছু একটা ঘটছে।

পালাবদল/এসএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]