শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
 
মিডিয়া
ভারতীয় ও পাকিস্তানি সাংবাদিকদের খোঁচা ট্রাম্পের!‌
ভারতীয় ও পাকিস্তানি সাংবাদিকদের খোঁচা ট্রাম্পের!‌





পালাবদল ডেস্ক
Thursday, Sep 26, 2019, 2:42 pm
 @palabadalnet

‘‌আপনার কাছে দারুণ সব সাংবাদিক আছেন। এদের কোথায় পান বলুন তো?‌ ইশ্‌, আমারও যদি এমন সাংবাদিক থাকত!‌’‌ ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একেবারে আগমার্কা, স্বকীয় মেজাজে সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করলেন। মুচকি হেসে তা হজম করা ছাড়া আর কীই বা করার ছিল মোদির!‌ 

বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন ট্রাম্প। উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রায় সব ক’‌টি জাতীয় সংবাদপত্র, চ্যানেলের প্রতিনিধিরা। একজনের প্রশ্ন ছিল এইরকম: ‘‌পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তো স্বীকার করেছেন যে আইএসআই–‌ই আল কায়দাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?‌’‌ প্রায় আকাশ থেকে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব, ‘‌কই, আমি তো তেমন কিছু শুনিনি!‌’‌ 

নাছোড় সাংবাদিকের পরের প্রশ্ন, ‘কোন পথে ‌কট্টরপন্থী ইসলামি মৌলবাদের মোকাবিলা করবেন?‌ তার কোনো মানচিত্র আছে?’‌ ট্রাম্প সেইদিকে না গিয়ে উত্তর দেন, ‘‌আমরা কাশ্মির সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।’‌ 

এরপর ওই সাংবাদিকের সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন মরিয়া সাংবাদিক। তাদের প্রশ্ন, ‘‌কিন্তু স্যার, সন্ত্রাসবাদ কি বড় সমস্যা নয়?‌ পাকিস্তান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যে সন্ত্রাসবাদ চাগাড় দিয়েছে, তার কোনো মানচিত্র আছে?‌’‌

এরপর মোদির দিকে তাকিয়ে ট্রাম্পের সহাস্য মন্তব্য, ‘‌আপনার কাছে তো দারুণ সব সাংবাদিক আছে!‌ আপনারা অন্য যেকোনো সাংবাদিকের চেয়ে ভালো!‌’‌ তারপর প্রশ্নের দায় মোদির ওপর চাপিয়ে বলেন, ‘‌দেখুন, সমস্যার সমাধানের জন্য আপনাদের একজন মহান প্রধানমন্ত্রী আছেন। এই নিয়ে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’‌

প্রকাশ্যে পাকিস্তানের এক সাংবাদিককেও অপদস্থ করেছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে  এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের সব প্রশ্নই ছিল কাশ্মির কেন্দ্রিক। ট্রাম্পের পাল্টা, ‘‌আমার এই সাংবাদিককে বেশ পছন্দ হয়েছে। আপনি কি ইমরানের টিমে?‌’‌ অপ্রস্তুত সাংবাদিক জবাব দেন, ‘‌না। আমি ইমরানের দলে নই। আমি একজন স্বাধীন, নিরপেক্ষ সাংবাদিক।’‌ এরপর পাকিস্তানের আরো কয়েকজন সাংবাদিক কাশ্মির সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করেন। সেই একই টিপ্পনী ট্রাম্পের। ইমরানকে বলেন,‘‌এইসব সাংবাদিকদের কোথা থেকে পান?‌ ওরা দারুণ তো!‌’‌

সাংবাদিককুলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরোধ সর্বজনবিদিত। ২০১৭–‌য় বিবিসি–‌র সাংবাদিকের সঙ্গে প্রকাশ্য কলহে জড়ান। একটি অপ্রিয় প্রশ্ন করেছিলেন বিবিসি–‌র জন সাপ্‌ল। মাঝপথেই তাকে থামিয়ে ট্রাম্প জানতে চান, ‘‌আপনি কোথা থেকে আসছেন?‌’‌ ‘‌বিবিসি’‌ শুনেই ট্রাম্পের শ্লেষ, ‌‘‌ওই আরেকজন.‌.‌.‌।’‌

সিএনএন–‌এর হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক জন অ্যাকস্টার হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবধি কেড়ে নিয়েছিলেন। সিএনএন অর্থাৎ কেব্‌ল নিউজ নেটওয়ার্ককে ফেক নিউজ নেটওয়ার্ক আখ্যা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। ২০১৮–‌য় সব সংবাদ মাধ্যমকে সমাজের শত্রু বলেছিলেন ট্রাম্প।‌‌‌‌- সংবাদসংস্থা

পালাবদল/এমএফ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]