শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
 
ধর্ম ও জীবন
দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ ধারায় এগিয়ে যাওয়াই ধর্মের আসল বিষয়
দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ ধারায় এগিয়ে যাওয়াই ধর্মের আসল বিষয়





আল্লামা ইমাম হায়াত
Tuesday, Jul 23, 2019, 4:23 pm
 @palabadalnet

ইসলাম ছাড়া সত্য নেই, কিন্তু ইসলামের নামে অনেক ধোঁকা প্রতারণা মোনাফেকি ও মূর্খতা আছে। মূল ধারা থেকে বিচ্যুত অনেক অধর্ম-কুধর্ম আছে যা ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত । ইসলামের মূল ধারা মহামহিম আহলে বায়েত ও মহামান্য খোলাফায়ে রাশেদীন এবং মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমের ধারায় সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়া কেরামের নির্দেশিত ধারা, ঈমানী ভাই বোন সম্মিলিত ধারা, আধ্যাত্মিক ও মানবিক রাজনৈতিক পূর্ণাঙ্গ ধারা ।

ইসলামের মূল বিষয় সকল বাতিল মতপথ থেকে মুক্ত থেকে কলেমার সত্য ও কলেমার চেতনায় তথা ঈমান আকিদায় সঠিক ধারায় থাকা। কলেমার চেতনা একমাত্র রেসালাত কেন্দ্রীক ও রেসালাত ভিত্তিক হওয়ার মাধ্যমে তাওহীদ ভিত্তিক জীবন চেতনা।

ইসলামের ছদ্মবেশী বাতিল ফেরকা ও বস্তুবাদি মতবাদের অনুসারী এবং বাতিল জালিম অপশক্তির স্বৈরদস্যুতন্ত্র মুলুকিয়তের সমর্থক হয়ে মুসলিম দাবি বিপরীত হয়ে যায়। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ এবং আধ্যাত্মিক বা রাজনৈতিক কোনো দিক অস্বীকার করলে কিম্বা সত্য ও মানবতার বিরুদ্ধে বাতিল জালিম অপশক্তির স্বৈরদস্যুতন্ত্র মুলুকিয়তের রাজনীতি সমর্থন করলে কলেমা দ্বীন শাহাদাতে কারবালার আমানতের খেয়ানত হয়ে যায় । কোনো বাতিলের সাথে একাত্ম হলে কলেমার বন্ধন আর থাকে না।

ইসলামের নির্দেশিত রাজনীতি একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও মুক্ত জীবনের অখণ্ড দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াতের রাজনীতি। মুসলিম অমুসলিম সকল মানুষের সমান অধিকার নিরাপত্তা স্বাধীনতা মর্যাদার রাজনীতি।  রাষ্ট্রব্যবস্থা দান করেছেন আল্লাহতাআলার মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। । ইসলামের সরাসরি নামে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দল ইসলাম বিরোধী খারেজি সালাফি শিয়াবাদি ওহাবিবাদের বাতিল রাজনীতি ।

ঈমান আকিদা হারিয়ে ভ্রষ্টতার শিকার হলে বাহ্যিক কোনো আমল দিয়ে মুসলিম দাবি করা যায় না। ঈমানী আকিদার ভিত্তিতেই মুসলিম হয় এরপর আমলের প্রশ্ন আসে। আল্লাহতাআলা ও তার মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈমানী আকিদায় বিশ্বাস না করে শুধু আল্লাহ রাসুল শব্দ উচ্চারণ করলেও ঈমানদার হওয়া যাবে না।

আল্লাহতাআলার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহতাআলার নূর হিসেবে ঈমান রাখার সাথে জীবনের ঊর্ধ্বে ভালোবাসা ঈমানের মূল ও আল্লাহতাআলার সম্পর্ক। কেউ আল্লাহতাআলার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমাদের মতো মানুষ মনে করলে ঈমান থাকবে না। নবুওয়াতের অন্যান্য সিফাত যেমন এলমে গায়েব, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নাবী ও দীদারে এলাহী এবং শাফায়াত এবং সব সিফাতে ঈমান রাখতে হবে যা অস্বীকার করলে ঈমান থাকবে না। বাহ্যিক বস্তুবাদি দৃষ্টি ঈমান নয়, ঈমানী আকিদার ভিত্তিতেই ঈমান।

কাদিয়ানি-ওয়াবি-খারেজি-সালাফি-শিয়াবাদি-মওদূদীবাদি ইত্যাদি মোনাফেক বাতিল ফেরকাও কলেমা পড়ে নামাজ রোজা করে মুসলিম দাবি করে। কিন্তু ঈমানদার নয়। বরং ঈমান দ্বীন ধ্বংসাত্মক। কারণ আকিদা একদিকে ঠিক থাকলে আরেক দিকে কুফরি এবং দ্বীন বিকৃত করে ভুয়া মনগড়া সন্ত্রাসী ধর্ম তৈরি করেছে। মুক্তির দ্বীনকে রুদ্ধতা পরাধীনতা ও জীবন ধ্বংসের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

ইদানীং অনেকে ইসলামকে ভালোবেসেও ইসলামের সঠিক ধারা ও বিকৃত ভ্রষ্ট প্রতারণা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মোনাফেক বাতিলদের ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছেন। ওয়াবি স্বৈরদস্যুতন্ত্র কিম্বা ইরানের শিয়াবাদকে ইসলাম মনে করা আঁধারকে আলো মনে করে শয়তানের ধোকায় নিমজ্জিত হওয়া এবং ইসলাম হারিয়ে ফেলা।

ওয়াবি-খারেজি-সালাফি-শিয়াবাদি-মওদূদীবাদি মোনাফেক সম্প্রদায় কথায় কথায় কোরআনুল করীম ও হাদিস শরীফের বিকৃত মনগড়া অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত ও ঈমান দ্বীন ধ্বংস করে। কোরআনুল করীম ও হাদিস শরীফ সত্যের মূল উৎস। কিন্তু বাতিল মোল্লাদের ব্যাপক কুফরি অপব্যাখ্যা আছে। কোরআনুল করীম ও হাদিস শরীফ উল্লেখ করলেও সহজে বিশ্বাস না করে ঈমানী দৃষ্টি ও আকিদার ধারায় ইমামবৃন্দ ও জামিয়ে আওলিয়া কেরামের নির্দেশিত ভাবধারায় চিন্তা করে দেখতে হবে, না হয় কুফরির ধোঁকায় পড়ে শয়তান হয়ে যেতে হবে।

ইদানীং বাংলাদেশ ও অনেক দেশে খেলোয়াড় শিল্পী ইত্যাদি অনেক বিখ্যাত লোক হঠাৎ দাঁড়ি বা বোরকা ইত্যাদি শুরু করেছেন; সঠিক আকিদায় হলে এটা ভালো, না হয় ভ্রষ্টতা ও বিপজ্জনক।
দাঁড়ি ধর্মীয় পদার্থ নয়, দাঁড়ি জৈবিক প্রাকৃতিক পদার্থ যা যেকোনো লোকের হয়, মুসলিম অমুসলিম অনেকেই দাঁড়ি রাখেন। বিশেষত ধর্ম নেতা সাধক চিন্তাবিদ দার্শনিক সাহিত্যিক শিল্পী বিজ্ঞানী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ প্রাকৃতিক বিষয় ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে অধিকাংশই দাঁড়ি রাখেন। কার্ল মার্কস যেমন দাঁড়ি রেখেছেন তেমনি রবীন্দ্রনাথও রেখেছেন। মুসলিম ছাড়াও আরো অনেক ধর্মের মানুষ টুপি পাগড়ী পরেন, যদিও ইসলামের সুন্নত হিসেবে পরা আর অন্যদের এক নয়। তবে এসব কোনো বাহ্যিকতাই ঈমান দ্বীন তাকওয়ার মূল বিষয় নয়।

ইসলামের সুন্নত হিসেবে ভালো নিয়তে দাঁড়ি রাখা ভালো, কিন্তু দাঁড়ি ধর্মের মূল নয় বা ধর্মপরায়নতা নয়। দাঁড়ি রেখেই সালাফি ওয়াবিরা মানুষ হত্যা করে ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, দাঁড়ি রাখা অনেক খারাপ লোক আছে, দাঁড়িওয়ালা অনেক কাফের জালিম অসৎ শয়তান আছে এবং দাঁড়িবিহীন অনেক ভালো লোক অনেক ঈমানদার অনেক সৎ লোক আছেন।  দাঁড়ির ভিত্তিতে নেককার অনেককার বা ভালো মন্দ পরিমাপ জঘন্য মূর্খতা, অনেকে এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করে নকল হাদিস পর্যন্ত প্রচার করে।

ঈমানের পর বিশ্বস্ততা, সততা, পবিত্রতা, হালাল- হারাম, সৎগুণাবলী, সেবাপরায়নতা, সবার জন্য ন্যায়-নৈতিকতা- অধিকার-সন্মান-নিরাপত্তা-স্বাধীনতার পরিবেশ ও সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব , জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা বিকাশ, মানবকল্যাণ ও সত্যের পথ প্রদর্শন এবং দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তার মাহবুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৈকট্য সাধনা ই ধর্মের আসল শিক্ষা। বাহ্যিকতা মুখ্য হয়ে গেলে ধর্মের আসল শিক্ষা আড়াল হয়ে ধর্মের বিলুপ্তি ঘটে। ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ বিকৃতি মূর্খতা তৈরি হয়।

বাহ্যিক কোনো কিছুই ধর্ম বা সততার প্রমাণ নয়। ধর্মের মূল বিষয় নয়। বরং আকিদা ঈমান আত্মা ও জীবনের সবদিকে দ্বীনের আসল ধারা না বুঝে দাঁড়ি বোরকা ইত্যাদিকে ধর্মের মূল বিষয় ও ধর্মপরায়ণতা মনে করা ধর্মের আসল মর্ম অস্বীকার করে ধর্মকে সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়।

কলেমার ভিত্তিতে তথা রেসালাতের প্রেম ও তাজীম ও শাণে উৎসর্গীকৃত হয়ে আল্লাহতাআলার নামে ও উদ্দেশ্য আত্মা ও জীবনের গঠন ই ধর্মের মূল মর্ম । আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সব দিকে দিনের পূর্ণাঙ্গ মানবিক ধারায় এগিয়ে যাওয়াই ধর্মের আসল বিষয়। আকিদা-আধ্যাত্মিক-রাজনৈতিক সবদিকে কলেমা কারবালার আলোকধারায় হকের চিরন্তন ধারায় বিশ্বস্ত অটল গতিশীল থাকা এবং এর বিপরীত ধারা তথা বাতিল জালিম অপশক্তির সাথে একাকার না হয়ে বিপক্ষে থাকাই সত্য তথা ধর্মভিত্তিক জীবন।

কেউ যতই নামাজ রোজা আদায় করে, দাঁড়ি রেখে যদি ওয়াবি-শিয়া-সালাফি-মেওয়াতি-মওদূদীবাদি-খারেজি ইত্যাদি ধর্মের নামে অধর্ম ধর্মের ছদ্মবেশী বাতিলের গোমরাহী কুফরিতে যুক্ত থাকেন সমর্থন করেন তিনি ঈমানহারা ও শয়তানি শয়তানের ধোকায় নিমজ্জিত ও ধর্ম বা ইসলামের শত্রু হয়ে যাবেন।

কেউ নামাজ-রোজা-দাঁড়ি-বোরকা সব বাহ্যিক করেও কলেমার চেতনার বিপরীত বস্তুবাদি মতবাদ ও বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদের সমর্থন করেন তিনি কলেমার বিপরীত হয়ে সত্য বা ধর্ম তথা ইসলাম থেকে বিচ্যুত এবং ইসলামের শত্রু হয়ে যাবেন।

ধর্মের ছদ্মবেশী অনেক ধোঁকা ও ঈমান দ্বীনের বিপরীত অনেক মতবাদ প্রকৃত ধর্ম ও মানবতার বিরুদ্ধে সমাজে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে সতর্ক না থাকলে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ধ্বংস অনিবার্য।

আল্লামা ইমাম হায়াত:  বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2019
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৭৩/৩২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]