বিনোদন
‘গানে চটকদারি চলে না’
‘গানে চটকদারি চলে না’





পালাবদল ডেস্ক
Tuesday, Jul 20, 2021, 12:03 am
 @palabadalnet

১৮ জুলাই ছিয়াত্তরে পা রাখবেন ভারতের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়। লোকগীতির জনপ্রিয় প্রচলিত গানগুলির একটি সংকলন শ্রোতাদের উপহার দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা আবহে তা আর হয়ে ওঠেনি।

শিল্পীর 'প্রাণ চায় চক্ষু না চায়' রবীন্দ্রসংগীতের সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছে করোনা আবহের ঠিক কয়েক মাস আগে। ইচ্ছে ছিল লোকগীতির জনপ্রিয় প্রচলিত গানগুলির একটি সংকলনও শ্রোতাদের উপহার দেবেন। প্রস্তুতি শেষ হলেও প্রকাশিত হলো না দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে। সেই থেকে মুম্বইয়ে ঘরবন্দি শিল্পীর আক্ষেপ, ‘আমি কলকাতা যেতে না পেরে ছটফট করছি প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তেই। কারণ বাংলা গানের জগতে এখনও অসম্পূর্ণ অনেক কাজ। তা সম্পূর্ণ করে যেতে হবে আগামী প্রজন্মের কথা ভেবেই। সময় বড় কম, বয়স যে বেড়ে যাচ্ছে।’

শুধু বাংলা বা হিন্দিতে নয়, ভারতের আরও ৬টি ভাষায় গান গেয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছলেও পিছু ছাড়েনি হতাশা। সেই হতাশার বড় কারণ, স্বর্ণযুগের পরে বাংলা গান নিয়ে শ্রোতাদের পুরোপুরি বিমুখ হওয়া। তবুও শিল্পীর বিশ্বাস, এই হতাশা থেকেই জন্ম নেবে সৃষ্টি। এখন সেই সৃষ্টির বীজ পুঁতলেই গাছে ফলবে ফল। গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর সমন্বয়ে বাংলা গানে ফের নতুন ভোর আসবে যেমন হয়েছিল স্বর্ণযুগে। তার প্রস্তুতির সময় আসন্ন। এমনই আশায় দিন গোনেন বাংলার এই প্রবীণ শিল্পী। এটা তার স্বপ্নও। প্রয়োজন সঠিক 'শিক্ষা'। ইদানিং বাংলা গানে এটারই বড় অভাব। শাস্ত্রীয়সঙ্গীত চর্চা এবং পরিশীলিত জ্ঞান না থাকলে বেশিদূর এগোনো যায় না। সুশীল বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, মুহাম্মদ সগির উদ্দিন খান, পণ্ডিত লক্ষণ প্রসাদ, পণ্ডিত রমেশ নাদকর্ণি, চিন্ময় লাহিড়ির কাছে জীবনের শুরুতেই তালিম পাওয়া শিল্পী এখনকার পরিস্থিতি এবং শিল্পীদের মানসিকতা মেনে নিতে পারেন না।

বড়ে গুলাম আলি খানের আশীর্বাদ ধন‍্যা সেই ছাত্রীকেও অনেক কঠিন পথ পেরোতে হয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়সে বড় চ‍্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল একবার 'শিল্পী' স্বীকৃতি পেতে। এখনও ভুলতে পারেন না সেই ঘটনা। 'তখন তো এখনকার মতো রিয়‍্যালিটি শো ছিল না। যে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছিলাম তার বিচারকদের মধ‍্যে ছিলেন অনিল বিশ্বাস, নওশাদ, বসন্ত দেশাই এবং সি রামচন্দ্র। এদের মুখোমুখি হয়ে গোটা দেশের এত ট‍্যালেন্টেড প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে সেরা স্বীকৃতির সম্মান ছিনিয়ে নেওয়ার পিছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম, চর্চা ও শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের প্রভাব।' এই স্বীকৃতিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। পরপর হিন্দি ছবিতে তখন প্লে-ব‍্যাক গায়িকার গুরুদায়িত্ব সামলানোর চূড়ান্ত ব‍্যস্ততা। 'সাহারা', 'গার্লফ্রেন্ড', 'তপস‍্যা' সহ প্রায় ১১টি ছবিতে গান গেয়ে গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।

অসাধারণ মিষ্টি গায়কীর জন্য ষাটের দশকেই সুচিত্রা সেনের ছবিতে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়ে সাড়া ফেলে দিলেন মানুষের মনে। শুধু সুচিত্রা কেন, তনুজা, শর্মিলা ঠাকুর, অপর্ণা সেন থেকে মাধবী মুখোপাধ্যায়, দেবশ্রী রায় প্রমুখ কোনও জনপ্রিয় নায়িকাই আর বাদ রইলেন না। একই সঙ্গে প্রাপ্তি হতে থাকে সেরা শিল্পীর তকমাও। ব‍্যস্ততাও তখন তুঙ্গে শিল্পীর জীবনে। কলকাতা ও মুম্বইয়ে ঘনঘন যাওয়া আর আসা। শুধু বাংলা ভাষাতেই এখনও অবধি তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি। যার মধ‍্যে বাংলা ছায়াছবির গানের সংখ‍্যাই বেশি। শিল্পীর উপলব্ধি, তখন আমরা এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিলাম যার একদিকে সেরা সুরকাররা, অন‍্যদিকে গীতিকাররা। শিল্পী যেখানে সেতু মাত্র।

বর্তমানে রিয়্যালিটি শো-এর গুরুত্ব কতটা বা ,সেগুলো কতটা নতুন প্রজন্মকে তৈরি করছে এমন প্রশ্ন বিভিন্ন সময়ে শোনা যায়। বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু কোনও মন্তব‍্যে না গিয়েও নির্দ্ধিধায় এই প্রবীণ শিল্পী বললেন, 'শিল্পীকে তৈরি হতে হবে শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের ছায়ায়। কোনও চটকদারিতে গান চলে না।' সূত্র: এই সময়

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]